সব খবর সবার আগে।

রবিঠাকুরের স্বস্থানে তিনি এখন ‘বহিরাগত’! প্রতিবাদে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি বাংলা পক্ষের

কবিগুরুর নিজস্ব চিন্তাভাবনারই প্রতিফলিত রূপ হলো শান্তিনিকেতন। সেখানে শিক্ষার্থীরা বদ্ধ ঘরে নয় বরং প্রকৃতির মাঝে প্রকৃতি থেকেই শিক্ষালাভ করবে এমন ভাবনা থেকেই বিশ্বভারতীর জন্ম। কিন্তু এবার সেই রবিঠাকুরকেই বহিরাগত বললেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি করল বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)।

বাংলার এই জাতীয়তাবাদী সংগঠন জানিয়েছে, ‘বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে রবি ঠাকুরের প্রাণের শান্তিনিকেতনকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। তাঁর তৈরি বিশ্বভারতীতে তাঁকেই “বহিরাগত” বলে অপমান করা হচ্ছে। এছাড়া আপনি বাঙালির পৌষ মেলা ও বসন্ত উৎসবকেও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? আপনার এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে কিছু বলার আমাদের ভাষা নেই।”

তাঁরা আরও জানাচ্ছে, ‘বিশ্বভারতী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শের ভিত্তিতে তৈরি একটি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন। সেখানে মেলার মাঠে পাঁচিল তুলে এবং নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে প্রাঙ্গণে সি আই এস এফ নিয়োগ করে এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যে একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিনত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে আমরা ধিক্কার জানাই। এভাবে বাংলার একটি শিক্ষাঙ্গনকে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের নিয়ন্ত্রণে আমরা কিছুতেই যেতে দিতে পারি না।’

তবে বাংলাপক্ষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে জানিয়েছে, ‘কবিগুরুর তৈরি বিশ্বভারতীকে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে বাংলার মানুষ।’

এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষ বিশ্বভারতীর প্রতিবাদী ছাত্র ছাত্রী এবং শান্তিনিকেতনের সমস্ত সচেতন নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এছাড়া তাঁরা কিছু দাবিও তুলেছেন।

১. কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি এই বিশ্বভারতীতে তাঁকেই “বহিরাগত” বলার অপরাধে ঠাকুরের মূর্তির কাছে আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই প্রাঙ্গণ থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে।

২. বিশ্বভারতী বাংলা ও বাঙালির গর্ব। প্রতিবছর দেশবিদেশ থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী এখানে শিক্ষা অর্জন করতে আসে। অথচ তাঁদের প্রকৃত শিক্ষার বদলে বন্দুকের নলের ডগায় শিক্ষা অর্জন করতে হয়! এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে CISF-র মতো সেনাবাহিনী প্রবেশ করে মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। এই ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করি এবং এই ধরনের ঘটনাকে আটকাতে আমরা সচেষ্ট হবো।

৩. পৌষ মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অংশ। সেই মেলার মাঠকে আমরা ধ্বংস করতে দেব না। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা ভবিষ্যতেও এই মেলা প্রাঙ্গণে প্রাচীর নির্মাণের কোনো রকম চেষ্টা করবেন না।

৪. বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ “পৌষ মেলা” এবং “বসন্ত উৎসব” বন্ধ করার চক্রান্ত করছে। এই উৎসব বাংলার প্রকৃতির সাথে শিক্ষা সভ্যতার মেলবন্ধনের উৎসব। এই দুটি উৎসব বন্ধ করার ন্যূনতম চেষ্টা হলে বাংলা পক্ষ সর্বশক্তি দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

৫. পৌষ মেলার মাঠে দেহ ব্যবসা হয় বলে যে ঘৃণ্য বক্তব্য রাখা হয়েছে উপাচার্যের তরফে তার জন্য তাঁকে এবার নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

বাংলা পক্ষ জানিয়েছে, তাঁদের এই দাবি পূরণ না হলে তাঁরা সারা বাংলার মানুষকে একত্র করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এভাবে আমরা শান্তি নিকেতনকে ধ্বংস হতে দেব না। সকল রবীন্দ্র-প্রেমী মানুষ এবং সমস্ত শিক্ষার্থীদের সাথে মিলে আমরা শান্তিনিকেতনকে বাঁচাবোই।’

You might also like
Comments
Loading...