সব খবর সবার আগে।

অনেক তথ্য গোপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, মমতার মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবী জানিয়ে কমিশনকে চিঠি প্রিয়াঙ্কার

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হলফনামাতে সমস্ত তথ্য উল্লেখ করেন নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই অভিযোগ আনলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা চলছে,তা তিনি হলফনামাতে উল্লেখ করেন নি।

হলফনামায় মমতা জানান যে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ১৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৪৫ টাকা। বর্তমানে তাঁর ব্যাঙ্কে রয়েছে ১৩ লক্ষ ১১ হাজার ৫১২ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ২৯ টাকা। তিনি এও জানান যে তাঁর নিজের নামে কোনও বাড়ি-গাড়ি, চাষযোগ্য জমি নেই। তাঁর কোনও ঋণ নেই বলেও জানান তিনি। তবে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা চলছে, তা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এইন কারণেই তিনি চিঠি দেন নির্বাচন কমিশনে।

আরও পড়ুন- ‘ইয়ে ডর হামে আচ্ছা লাগা’, ত্রিপুরায় পদযাত্রার অনুমতি না পেয়ে বিপ্লব দেব সরকারকে চরম কটাক্ষ অভিষেকের

এর আগেও কমিশনের কাছে দরবার করে বিজেপি। একুশের নির্বাচনে সমস্ত ফোকাস নন্দীগ্রামে থাকলেও, উপনির্বাচনে সমস্ত লাইমলাইট এখন ভবানীপুরে। একুশের নির্বাচনের ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে জয়লাভ করেন তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি পদত্যাগ করায় সেখান থেকে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে বিজেপিও। তাদের দুঁদে আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে আনা হয়েছে মমতার প্রতিপক্ষ করে। শুভেন্দু অধিকারীরা বারবার বলেছেন প্রিয়াঙ্কা তাদের লড়াকু নেত্রী। তাঁর কারণেই ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিজেপি যে অভিযোগ তুলেছিল, তাতে জয় পায় তারা। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে সিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয় ভোট পরবর্তী হিংসায় তদন্তের জন্য।

গতকাল, সোমবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। এদিন মনোনয়ন জমা দিয়ে বেশ হুঙ্কারের সুরেই প্রিয়াঙ্কা বলেন, “রাজ্যে হিংসা বন্ধ করতে হবে। হিংসার খুনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ভবানীপুরের মানুষ একবার ভোট দিয়েছিল। সেটাই ছিল গণতন্ত্র। যেটা মানতে হবে। কিন্তু জোর করে আবার মুখ্যমন্ত্রী ভোট করাচ্ছেন। কারণ ওঁর চেয়ারে বসার জেদ আছে”।

আরও পড়ুন- সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে ফের বোমাবাজি, এক সপ্তাহে দু’বার এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে গেরুয়া শিবির। প্রত্যেক বুথে দু’জন করে এজেন্ট রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কা শাসকদল প্রশাসনকে দিয়ে ভোটারদের উপর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর হয়ত প্রভাব বিস্তার করবে। এই কারণে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির দাবী জানানো হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...