রাজ্য

রাজ্য সদর দফতর থেকে ফের বিক্ষোভ মিছিল বিজেপির, দাবী পুরভোট বাতিলের

রবিবার দিনভর পুরসভা নির্বাচনের জেরে উত্তপ্ত মহানগরী। শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটলুঠের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এদিন বেলা গড়াতেই রাস্তায় নেমে আন্দোলন দেখায় বিরোধীরা। দেখা যায় এক বিরল ঐক্যের। উত্তর কলকাতার বড়তলা থানার সামনে একসঙ্গে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি-সিপিআইএম-কংগ্রেস।

সেই প্রতিবাদ আজও অব্যাহত। আজ, সোমবার ফের প্রতিবাদ মিছিল বের করবে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সদর দফতর থেকে শুরু হবে এই মিছিল। এই মিছিলে অংশ নেবেন রাজ্য পদাধিকারী ও রাজ্য কমিটি সদস্য ও জেলা সভাপতিরা।

এদিন দুপুর ২টোয় বেরোবে গেরুয়া শিবিরের এই মিছিল। অন্যায়ভাবে নির্বাচন হয়েছে রাজ্যে, এর প্রতিবাদে শাসকদলের বিরুদ্ধে এই মিছিল বের করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবী করা হয়েছে যে কোনও জায়গায় ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পুরভোট শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিরোধীরা এই দাবী নস্যাৎ করে দেয়।

১৪৪টি ওয়ার্ডেই পুনর্নির্বাচন চেয়েছে বিজেপি। এদিকে বাম ও কংগ্রেসও একাধিক ওয়ার্ডে পুনর্নির্বাচনের দাবী তুলেছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা কম। কমিশনের দাবী পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।

জানা গিয়েছে, মোট ৪৫৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ১৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই জায়গায় হয়েছে বোমাবাজি। তবে সিসিটিভি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, কোনও জায়গায় সিসিটিভি অচল ছিল না। শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটলুঠের অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটে অনিয়মের অভিযোগে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায় বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। এরপর বড়তলা থানার সামনে বিক্ষোভে যোগ দেয় বিজেপি।

৯৬, ১০১, ১০২, ১১০ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। বাঘাযতীন মোড়ে অবরোধ করেন বামেরা। পুলিশের সঙ্গে বেঁধে যায় ধস্তাধস্তি। খিদিরপুরে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বাম কর্মীরা। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মীরা। তাঁদের আটক করে পুলিশ।

শহরে প্রায় সর্বত্র শক্তি প্রদর্শন, এজেন্ট বসতে না দেওয়া, মারধর, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ শাসকশিবির। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “পুনর্নির্বাচনের প্রথম থেকেই দরকার হবে না, সেই মতোই নির্ঘণ্ট তৈরি হয়েছিল। গতকাল নির্বাচন হয়েছে। আগামিকাল ফল ঘোষণা। রাত পর্যন্ত রিপোর্ট এসেছে। পুনর্নির্বাচন হবেটা কবে? নির্ঘণ্ট দেখেই বোঝা গিয়েছিল, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের নির্দেশ মেনে পুনর্নির্বাচনের সময় রাখেনি। ইভিএম ভাঙা, মাটিতে পড়েছিল। সব বুথ ছে়ড়ে দিলেও, ওই বুথটাকেই যদি ধরি, তাহলে ওই বুথের গণনা কীভাবে হবে? সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী থাকবে”?

অন্যদিকে, আদালতে যাওয়ারও স্পষ্ট আভাস দিয়ে রাখেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর কথায়, “পুরভোটটাকেই বাতিলের দাবি করেছি। ২৩ তারিখে হাইকোর্টে আমরা গোটা বিষয়টি জানাব। হাইকোর্ট প্রত্যেকটি বুথে সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিল। আমরা ৬ হাজার বুথের সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক অডিট চাইব। তাহলেই দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য আর টিকবে না”।

Related Articles

Back to top button