সব খবর সবার আগে।

শুভেন্দু’র অনুগামী হয়ে বিজেপিতে গমন, মুকুল সঙ্গে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন? কুনাল ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজীবের!

শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের এক-দু মাসের মাথাতেই মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল ছেড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচন পূর্ববর্তী একাধিক সভা থেকে তৃণমূলের হয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী পদ‌ও দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ব্যাপক ভোটে হেরে মন খারাপ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে দরবার করছেন রাজীব।

মুকুলের তৃণমূলে আগমনের ঠিক দু’দিন আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে ছোট্ট করে মুখ‌ও খুলে ফেলে ছিলেন তিনি।  তার জন্য বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ’র কাছে ভালো রকম কটাক্ষ হজম করেন তিনি। এর মধ্যেই গতকাল বিজেপির ভাবনা-চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সপুত্র তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন মুকুল রায় ।

আর এরপর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে গুঞ্জন তাহলে কি মুকুলের হাত ধরে এবার তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়?

সেই জল্পনা উস্কে দিয়ে মুকুল রায়ের ঘর ওয়াপসি’র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক শনিবার সন্ধ্যায় দেখা করলেন  রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে।‌ কুনাল বাবুর বাড়িতে দুজনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে।

তবে রাজীব অনুগামীরা বলছেন, তৃণমূলে ফেরা নয় নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য কুণালের বাড়িতে গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। হঠাৎ করেই বিরোধীদল তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাঁর দেখা করা তৃণমূলে ফেরার‌ই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ বিজেপির সঙ্গে ইতিমধ্যেই মধুর সম্পর্ক তেতো হতে শুরু করেছে রাজীবের। দিলীপ ঘোষের রাজ্যস্তরীয় বৈঠকেও ডাক পাননি রাজীব। উল্টে বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসা করে ফেলেন তিনি। ‌

কিন্তু রাজীবকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া একটু সমস্যার। কারণ তৃণমূলের অন্দরেই রাজীবকে নিয়ে বেশ ক্ষোভ। আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে ডোমজুড়ের বাঁকড়া এলাকায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে পোস্টার এবং ফ্লেক্স পড়ে।

আরও পড়ুন- ‘মস্তক মুণ্ডন করে পাপ খণ্ডাব’, মুকুল বিদায়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া সৌমিত্র খাঁর 

সেখানে প্রত্যক্ষভাবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকলেও পরোক্ষভাবে এই পোস্টার যে তাঁর বিরুদ্ধেই পড়েছে বুঝতে বাকি নেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে সাধারণ মানুষের।‌

বির্তকিত পোস্টারে লেখা ছিল বাংলার মীরজাফর–গদ্দার–বেইমানদের কোনও ঠাঁই নেই। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে সেচ দফতরে তদন্ত কমিটি বসিয়ে গদ্দারদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। পোস্টার বা ফ্লেক্সের নীচে লেখা আছে ডোমজুড় কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ বিজেপি কর্মী সমর্থক রা নয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী–সমর্থকরাই আর চাইছেন না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আবার দলে ফিরুক। রাজ্য নেতৃত্বকে বার্তা দিতেই এই পোস্টার বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...