রাজ্য

চোপড়া কাণ্ড: কিশোরী খুনে অভিযুক্তদের শাস্তি দাবিতে ধর্নায় বিজেপি, গ্রেফতার রাজু ব্যানার্জি

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় মাধ্যমিক উত্তীর্ণা ১৬ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করে বিষ খাইয়ে হত্যা করার ঘটনার অভিযোগে এখনও উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। গোটা ঘটনায় পুলিশ ও জনতা খণ্ডযুদ্ধে এলাকার পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়েই রয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি নিয়ে বুধবার দুপুরে ফের আরেকবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল চোপড়ার উকিলপাড়া।

গণধর্ষিতা হয়ে খুন হওয়া কিশোরী স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতির বোন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির দাবি যে এই খুনের সঙ্গে শাসক শিবিরের যোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উকিলপাড়ায় নিজেদের কার্যালয়ের বাইরে অস্থায়ী মঞ্চে ধর্নায় বসেছিলেন বিজেপি নেতা ও কর্মীরা। আজ সেখান থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই বিজেপি নেতার সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি বাঁধে এবং বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও পুলিশ বচসা শুরু করে। এমনকি বিজেপির মহিলা কর্মীদের গায়েও হাত তোলা হয় বলে অভিযোগ। চোপড়া কান্ডে মাধ্যমিক উত্তীর্ণা কিশোরীর খুনের তদন্তের দাবিতে এবং অভিযুক্তরা যাতে শাস্তি পায় সেই দাবি নিয়ে নিজেদের কার্যালয়ের বাইরের অস্থায়ী মঞ্চে বুধবারও ধর্না চলছিল।

দুপুরে সেখানে যান বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরে আচমকা সেখানে হাজির হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ দাবি করে যে ধর্না তুলে দিতে হবে। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন যে, কালকে একুশে জুলাই তৃণমূল কর্মীরা যে এখানে বিশাল মিছিল করে শহীদ দিবস পালন করলেন তখন আপনারা কেন কিছু বললেন না? তখন পুলিশের উত্তর, “সেই কৈফিয়ত আমরা আপনাকে দেব না।” এরপর এই বচসা বাড়তে থাকে। এমনকি কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে রীতিমতো ‘হামলা’ চালায় মহিলা পুলিশ কর্মীরা। বিজেপির মহিলা কর্মীরা শৌচাগারে ঢুকে গেলে তাঁদেরকে জোর করে টেনে বার করা হয়। এরপরেই ধর্না মঞ্চের পাশ থেকে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে যখন পুলিশ ভ্যানে তুলতে যায় তখন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি বাঁধে। গোটা ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চোপড়া কান্ডে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কিশোরীর পরিবারকে। কিন্তু ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠেছে তাকে চোপড়া কান্ডের পরের দিনই মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ধর্নায় বসেছিল বিজেপি। কিন্তু তাদের অভিযোগ পুলিশ অভিযুক্তদের না ধরে তাদেরকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button