সব খবর সবার আগে।

দিল্লির বিজেপি নেতাদের একঘরে করতে সদর দফতরই ভেঙে দিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব!

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভোটের ফল একেবারে আশানুরূপ হয়নি। আর এই কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দোষী ঠাওরেছে রাজ্য বিজেপি। দিলীপ ঘোষ নিজেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দেগেছেন। তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছেন বাকিরাও। কেন্দ্রীয় আধিপত্য থেকে মুক্তির দাবীও উঠেছে। তাই এবার দিল্লির নেতাদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখতে নিজেদের কার্যালয়ই আলাদা করে নিলেন রাজ্য বিজেপি।

তবে বিজেপি তরফে খবর মিলেছে, ভোট মিটে গেলেও হেস্টিংসের নির্বাচনী কার্যালয় ছাড়ছে না বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে এলে তারা এই কার্যালয়েই বসবেন। অন্যদিকে, মুরলীধর স্ট্রীটে বিজেপির পুরনো কার্যালয়ে থাকবেন রাজ্য বিজেপির নেতা অর্থাৎ দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহারা।

আরও পড়ুন- ভোট পরিবর্তী হিংসায় ইন্ধন জোগাচ্ছেন রাজ্যপাল, জগদীপ ধনখড়ের অপসারণের দাবী করে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ

বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন টার্গেট করে বিজেপি।কিন্মতু শেষ পর্যন্ত তা ৭৭-এ এসে ঠেকেছে। আর এর কারণ হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপির রাজ্য নেতারা। নানা ন জেলায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা হস্তক্ষেপ করেছেন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবী, তাদের এই হস্তক্ষেপের ফলেই দলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রচার করা ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে গ্রহণ করেছে বাংলার মানুষ। অচেনা নেতা জেপি নাড্ডা, অমিত শাহদের দেখে তাদের আপন করে নিতে পারেনি তারা। বরং তাদের কাছে আপন মনে হয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল।

দলের রাজ্য নেতাদের একাংশের মতে, মোদী হোক বা শাহ, তারা কেন্দ্রীয় নেতারা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, শিবপ্রকাশ, অমিত মালব্যর মতো নেতাদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে বোঝার চেষ্টা করেছেন। রাজ্য বিজেপির দাবী, যারা নিজেরাই ভাল করে বাংলাকে চেনেন না তাদের মাধ্যমে বাংলাকে কীভাবে চিনবেন এই নেতারা। তাই বিজেপি রাজ্য নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কারণেই ভাগ হতে চলেছে দলীয় কার্যালয়।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, “ভোটের আগে বারবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানালেও কর্ণপাত করেননি কৈলাস, অরবিন্দ মেননরা। সমস্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন তাঁরা। এর ফলে এরাজ্যের বিজেপি নেতাদের ওপরেও ‘বহিরাগত’ তকমা লেগেছে। এটা রাজ্য নেতৃত্বের অনেকেই মানতে পারছেন না”।

আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসায় একের পর এক হিন্দুরা আক্রান্ত, অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপের দাবী বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

তবে বিধানসভা ভোটে পরাজিত হলেও নিজের নিজের পদে বহাল রয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। আপাতত রাজ্যে না থাকলেও, কিছুদিনের মধ্যেই ফিরবেন কলকাতায়। তখন তারা বসবেন হেস্টিংসের কার্যালয়ে। অন্যদিকে, মুরলীধর স্ট্রীটে থাকবেন বিজেপির রাজ্য নেতারা।

You might also like
Comments
Loading...