রাজ্য

আচার্যের পর এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদও খোয়াতে পারেন রাজ্যপাল, ভিজিটর হিসেবে ধনখড়ের পরিবর্তে ব্রাত্যকে আনার ভাবনাচিন্তা রাজ্যের

সরকারির পর এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদও হারাতে চলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। এতদিন পর্যন্ত রাজ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটর (visitor) পদে আসীন ছিলেন তিনি। তবে শোনা যাচ্ছে, এবার তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে ওই অদে বসানো হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীকে অর্থাৎ ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu)। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকেই আচার্য করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর জন্য নিতে হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা। আইন সংশোধন করতে হবে পদ বদলের জন্য।

এবার সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটর পদ বদল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে স্থির হয়েছে যে রাজ্যপাল নন, ভিজিটর পদে আসীন হবেন শিক্ষামন্ত্রী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আইন সংশোধনের ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্য সরকার।

বলে রাখি, ২০১৪ সালে তৈরি হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন। সেই আইন অনুযায়ী, ভিজিটর পদে যিনি থাকবেন, তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে নানান তথ্য তলব করতে পারবেন। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হলেও সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ভিজিটরকে দিতে হবে। সেই ভিজিটর পদে আসীন করানো হয়েছিল রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে। এবার সেই আইনে সংশোধন করে সেই ভিজিটর পদে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে।

রাজ্যের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে বিরোধী দলগুলির তরফে। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে বলেন, “রাজ্যপালকে অস্বীকার করার জন্য এই পদক্ষেপ। চরম নৈরাজ্য চলছে বাংলায়। রাজভবনও অধিগ্রহণ করতে পারে তৃণমূল”। এদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর সেই একই সুর টেনে বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে গোটা দেশের কাছে বাংলার মর্যাদা খর্ব হচ্ছে”।

অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কটাক্ষের পাল্টা জবাব দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। তিনি বলেন, “বিরোধীরা সব কিছু জেনেও অর্ধশিক্ষিতের মতো কথা বলছেন। বিশ্বভারতীর আচার্য যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হতে পারেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না কেন? আর যাঁর মান থাকে, তাঁকেই অপমান করা যায়। রাজ্যপালের তা নেই। তাই অপমানের প্রশ্নও নেই”।

Related Articles

Back to top button