রাজ্য

ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের করা হয়নি আর্থিক সাহায্য, হাইকোর্টের তীব্র ভৎর্সনার মুখে রাজ্য সরকার

ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় ফের কলকাতা হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্তদের কেন এখনও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়নি, তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের ডিভিশন বেঞ্চ।

আজ, সোমবার এমনিতে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে হাইকোর্টে মুখবন্ধ খামে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর ৪০টি মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এছাড়াও চার্জশিট জমা পড়েছে সাতটি। সিবিআইয়ের আইনজীবীর কথায় তদন্ত ভালভাবেই এগোচ্ছে। রাজ্যও তদন্তে সাহায্য করেছে বলেন খবর।

সিবিআইয়ের তরফে অসহযোগিতা নিয়ে কোনও অসন্তোষ প্রকাশ করা না হলেও, রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে তোপ দেগেছে উচ্চ আদালত। হাইকোর্টের গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দলকে সাহায্য করার জন্য নিয়োগ করা ১০জন আইপিএস আধিকারিকদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। আদালতের তরফে দাবী, গত আগস্টের নির্দেশে কোথাও সিটকে সাহায্য করার জন্য কাউকে নিয়োগ করতে বলা হয়নি। আর সিটের তরফেও এমন কোনও আবেদন জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও এই নিয়োগ কেন করল রাজ্য? প্রশ্ন আদালতের।

তোপের মুখে পড়ে রাজ্যের তরফে দাবী করা হয়, সিটের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আইপিএস অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। যাচাইয়ের করার জন্য হাইকোর্ট এই বৈঠকের তথ্য চেয়ে পাঠায়। কিন্তু কিন্তু তা দিতে ব্যর্থ হয় রাজ্য। হাইকোর্টের তরফে জানানো হয় যে সিটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরকে নিয়োগ করা হয়েছে। সিটের তদন্তে সহযোগিতার জন্য অতিরিক্ত আইপিএস নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গেও আলোচনা করেনি রাজ্য।

তোপের এখানেই শেষ নয়। অগস্টেই হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যাতে দ্রুত ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য করা হয়। কিন্তু সোমবারের শুনানিতে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য প্রদানের তেমন কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আর এতেই রীতিমতো ক্ষোভপ্রকাশ করে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। তাদের কথায়, “এটার মাধ্যমেই একটি সিরিয়াস (গুরুতর) বিষয়ে রাজ্যের একেবারে ক্যাজুয়াল অ্যাটিটিউড ধরা পড়ছে”।

বলে রাখি, গত অগস্টে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বেশ বড় ধাক্কা খায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের নির্দেশ দেওয়া হয় যে হত্যা, ধর্ষণ এবং মহিলাদের উপর অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের তদন্ত করবে সিবিআই। আর অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করবে সৌমেন মিত্র, সুমন বালা, রণবীর কুমারকে নিয়ে গঠিত তিনজনের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য দুই দলকেই ছয় সপ্তাহের সময় দেয় আদালত।

Related Articles

Back to top button