রাজ্য

নজিরবিহীন! মমতার তৃতীয় সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির মধ্যেই ১৪টি সিবিআই তদন্ত, গত ১১ বছরে সিবিআই তদন্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩০০-এরও বেশি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার সরকার গড়েছেন তার এই সবেমাত্র এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আর এই মাত্র এক বছরেই রাজ্যের নানান গুরুতর অপ্রাধ, দুর্নীতির ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব গিয়ে পৌঁছেছে সিবিআইয়ের হাতে। আর সবক্ষেত্রেই সেই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বাংলা ছাড়া এমন নজির অন্য কোনও রাজ্যে মনে হয় দেখা যায় না।

সারদা ও নারদ মামলায় নাম জড়িয়েছে একাধিক নেতা-মন্ত্রীর। ইতিমধ্যেই বেশ কিছুজনের জেল খাটাও হয়ে গিয়েছে বটে। মঙ্গল ও বুধবারই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় একাধিক সরকারি ও আধা সরকারি অফিসারদের নাম জড়িয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া সিবিআই তদন্তের নির্দেশের বিরুদ্ধে অনেক সময় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে বটে। রাজ্য সরকারও একাধিক বার হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ তেমন হয়নি। সবদিক থেকে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে মান্যতা দিয়েই সেই রায়ই বহাল রাখা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলে এসেছেন যে কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই নাকি সিবিআই, ইডি-কে রাজ্যের পিছনে লাগিয়েছে। এমন অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকার সিবিআইকে তদন্তের জন্য সাধারণ অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আদালতের তরফে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলে রাজ্যের অনুমতির দরকার পড়ে না।

এদিকে, সিবিআইও বারবার আদালতে জানিয়েছে যে এত তদন্তের বোঝা তারা বইতে পারছে না। কারণ? লোকবলের অভাব। কিন্তু এদিকে রাজ্য পুলিশের উপর অনাস্থার কারণেই বারবার সিবিআইকেই নানান তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই কারণেই, সিবিআই তদন্ত করলেও, নানান মামলায় অগ্রগতি তুলনামূলক কম। সারদা বা নারদ মামলায় এখনও অনেক মামলার চার্জশিট দিতে পারেনি সিবিআই।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখন বাংলায় তিনশোর বেশি মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যে আবার বেশ কিছু মামলার তদন্তভার রয়েছে ইডি অর্থাৎ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অধীনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার সরকার গড়ার পরই আদালত যে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, তা হল ভোট পরবর্তী  হিংসার মামলা। আদালতের তরফে বলা হয়েছিল যে খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলার তদন্ত করবে সিবিআই।

এদিকে, সারদা ও নারদ মামলা নিয়ে তো সিবিআই তদন্ত চলছিলই। সারদা চিটফান্ড মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চারটি এফআইআর করেছে। এই প্রতিটি একটি করে মামলা হিসাবে ধরা হয়। চিটফান্ডের মামলার তালিকায় আসছে রোজভ্যালি, আইকোর ইত্যাদি মামলা। এছাড়াও ছোট-মাঝারি মিলিয়ে শ দেড়েক চিটফান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চালাচ্ছে।

তবে আদালতের কাছে রাজ্য সরকারকে সবথেকে বেশি তোপের মুখে পড়তে হয়েছে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে। সেই নিয়েও তদন্তভার গিয়েছে সিবিআইয়ের উপরেই। এই শুনানিতে আদালত হতভম্ব হয়ে যায় এই দেখে যে পরীক্ষাই দেয়নি এমন লোকজনও চাকরি পেয়েছে ও বেতনও পাচ্ছে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে মোট ৭টি মামলার তদন্ত করছে সিবিআই।

অন্যদিকে, হলদিয়া বন্দরে তোলাবাজি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এদিকে, রামপুরহাটের বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিবিআইকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের খুনের ঘটনার তদন্তও চালাচ্ছে সিবিআই।

খুন হয়েছিলেন পুরুলিয়ার ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে সিবিআই। আবার তপন কান্দু খুনের পরই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এই ঘটনার মূল সাক্ষীর। সেই মৃত্যুরহস্যের তদন্তভারও গিয়েছে সিবিআইয়ের উপরেই।

Related Articles

Back to top button