রাজ্য

গ্রামবাসীদের অ্যাকাউন্টে গরু পাচারের লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন, জানেনই না অ্যাকাউন্টের মালিকরা, অনুব্রতর গড়ে সিবিআই হানাতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাদের নামে রয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকাও। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কিছুই জানেন না অ্যাকাউন্টের মালিকরা। বীরভূমের সিউড়ি ২ ব্লকে সিবিআই হানা হতেই উঠে এল এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আজ, বুধবার বীরভূমের কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কে হানা দেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানকার ম্যানেজার ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা যান সিউড়ির ওই দুই গ্রামে।

সিবিআই প্রতিনিধিরা প্রথমে বীরভূমের কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কে যান। সেখানকার ম্যানেজার ও আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। জানা গিয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি এই ব্য়াঙ্কেই আচমকা হানা দিয়েছিল সিবিআই। সেখানে বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি ১৭৭ ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তারা। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর এদিন ফের ব্যাঙ্কে হানা দেয় সিবিআই।

এদিন সিবিআই আধিকারিকরা বেরিয়ে সোজা চলে যান সিউড়ি ২ ব্লকের দুই গ্রাম ধোবাগ্রাম ও হরিপুরে। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তাদের। কারণ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কে এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে।

সিবিআই জানায়, এই কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কে এমন একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে যার মাধ্যমে গরু পাচারের অনেক টাকা চালকলের মাধ্যমে নানান অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। অনলাইনে সেই টাকা ঢুকেছে আবার এর সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষর করেও টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। আর এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের মালিক অধিকাংশই এই দুই গ্রামের বাসিন্দা।

এই বিষয়ে গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করতে তারা জানান যে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। অ্যাকাউন্টের নথিগুলি তাদের হলেও ছবি তাদের নয়। এমনকি, অ্যাকাউন্টে যে এমন লেনদেন হয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা কিছুই জানেন না। অনেকে এমনও আছেন যারা চোখেই দেখতে পান না। এই ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হলেন সিউড়ি ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুরুল ইসলাম। এদিন সিবিআই আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের বয়ান রেকর্ড করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেও হানা দেন বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button