রাজ্য

বড় খবরঃ তৃণমূল নেতার নির্দেশেই বগটুইয়ে পুড়ে ছাই হয়েছিল ১১ জন, বাড়ি জ্বলতে দেখেও চুপ ছিলেন তৃণমূল নেতা, সিবিআই চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বগটুই গণহত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা রাজ্যে কার্যত আগুন জ্বলেছিল। নানান বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় আঙুল তোলে শাসকদলের দিকে। বগটুই কাণ্ডে একাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই হয়, আর সেই বাড়ির সঙ্গে সেদিন পুড়েছিল ১১ জন মানুষও। এই ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছিল সিবিআই। এবার সিবিআইয়ের চার্জশিটে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেল যে তৃণমূল নেতার নির্দেশেই সেদিন বগটুইয়ে এই গণহত্যা হয়েছিল।

মৃতদের পরিবারের তরফে আগেই বারবার দাবী করা হয়েছিল যে তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেনের নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছে। এবার সিবিআই চার্জশিটেও তাই-ই লেখা হল আনারুলের প্ররোচনাতেই সেদিন বগটুইয়ে বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়েছিল। আর এই অপরাধে আনারুলের বিরুদ্ধে অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার কারণে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা জারি করা হয়েছে।

বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মৃতদের পরিবারের লোকজন বারবার দাবী করে এসেছে যে এই ঘটনায় হাত রয়েছে তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেনের। তাদের দাবী ছিল যে আনারুলের নির্দেশেই সেদিন আগুন লাগানো হয়। চোখের সামনে বাড়িঘর জ্বলতে দেখেও কোনও বাধা দেন নি তৃণমূল নেতা। এমনকি, পুলিশকেও খব্র দেন নি তিনি।

বলে রাখি, গত ২১শে মার্চ সন্ধ্যায় রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান ভাদু শেখকে গুলি করে খুন করা হয়। আর এদিন রাতেই বগটুই গ্রামে কিছু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ১১ জনের। গত ২৫শে মার্চ এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলজাতা হাইকোর্ট।

এই ঘটনার পরই পালিয়ে যায় আনারুল। তবে ২৪শে মার্চ তাঁকে তারাপীঠের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত সোমবার এই মামলার প্রথম চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। কিন্তু চার্জশিটে নাম না থাকার জেরে ইতিমধ্যেই জামিন হয়েছে ২১ জনের। তবে এবার আনারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল চার্জশিটে।  

এই আনারুল হোসেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। এমনও দাবী উঠেছিল যে বগটুই ঘটনার দিন আনারুলের সঙ্গে ফোনে কথা হয় অনুব্রতর,। সেই সময় বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা শুনে অনুব্রত বলেছিলেন, “দুটো বাড়ি পুড়ছে পুড়তে দাও”, এমনও অভিযোগ সামনে আসে। তবে এই সবকিছুই অস্বীকার করেছিলেন তৃণমূল নেতা। তবে বগটুইয়ে গণহত্যাকাণ্ডের পর কোনও তদন্তের আগেই অনুব্রত মণ্ডল এই ঘটনা নিয়ে বলেছিলেন যে টিভি ফেটে নাকি এই আগুন লেগেছে। তাঁর এহেন মন্তব্য নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত অনুব্রত মণ্ডলের নাম আর এই মামলায় উঠে আসেনি।

Related Articles

Back to top button