রাজ্য

মমতার অভিযোগের মাঝেই ফের টাকা এল কেন্দ্র থেকে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যকে ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ মোদী সরকারের

রাজ্য সরকারের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানানো হচ্ছে যে একশো দিন ও আবাস যোজনায় বরাদ্দ টাকা বন্ধ করে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এবার হয়ত জট কাটতে চলেছে। আগামী ৬ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বাংলার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগেই গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র সরকার।

এই বিষয়ে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে যে এটা কোনও দয়ার দান নয়। পঞ্চদশ অর্থকমিশনের সুপারিশের পর রাজ্য স্তরে কিছু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দিল্লির সরকারের বরাদ্দ করার কথা। সেই অনুযায়ী গ্রামীণ আবাস যোজনায় ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। মোট ১১ লক্ষ বাড়ির জন্য এই টাকা গরিবদের বরাদ্দ করা হবে। এ জন্য খরচ হবে ১৩ হাজারেরও কিছু বেশি টাকা। তার মধ্যে ৮২০০ কোটি টাকা দিল কেন্দ্র। বাকি টাকা দেবে রাজ্য।

গ্রামীণ আবাস যোজনা খাতে কেন্দ্রের তরফে ৬০ শতাংশ টাকা আসার কথা। আর বাকি ৪০ শতাংশ দেওয়ার কথা রাজ্যের। তবে নবান্নের আমলাদের দাবী, প্রশাসনিক খরচ মিলিয়ে রাজ্যের আরও ১০ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে যায়।

তবে এই বরাদ্দ টাকা যে রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেবে, তেমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দু’বছরে করোনা মোকাবিলায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজস্ব আয়ও কমে গিয়েছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যদি ১১ লক্ষ বাড়ির জন্য বরাদ্দ করা হয়, তাহলে অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিককালে বারবার কেন্দ্র সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা রাজ্য তছনছ করছে। এই অনিয়ম যদি বন্ধ না হয়, টাকা দেওয়া বন্ধ করার আবেদনও জানান তিনি। সেই কারণে কেন্দ্রের এই বরাদ্দের কারণে বিজেপ হয়ত ততটা খুশি হতে পারবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে সবকিছুর মাঝে ইতিবাচক ঘটনা হল, বরাদ্দ হয়েছে যা রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে খুশির হাওয়া এনে দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button