রাজ্য

‘পঞ্চায়েত কাজ না করলে আমাকে দায়িত্ব দিক’, প্রশাসনের ঢিলেমিতে তিতিবিরক্ত শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি!

একুশের নির্বাচনে তিনিই ছিলেন দরিদ্রতম প্রার্থী। বিজেপির হয়ে শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। একদিকে যখন বিজেপি তাবড় তাবড় নেতারা ব্যাপকভাবে প্রচার চালিয়েও নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছিলেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শালতোড়া থেকে বিজেপির জিত ছিনিয়ে আনেন তিনি। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, কথা হচ্ছে চন্দনা বাউরিকে নিয়েই।

বিধায়ক হওয়ার পর নিজের কেন্দ্রের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ও তাদের সাহায্য করার অঙ্গীকারবদ্ধ হন চন্দনা বাউরি। কথা রেখেওছেন। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই  এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করেছেন এবং তা সমাধানেরও চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন- সৌজন্যের অন্যতম নজির বাংলায়! মোদীকে সুস্বাদু, রসালো আম উপহার হিসেবে পাঠালেন মমতা

তবে এবার নিজেকেই হয়রানির মধ্যে পড়তে হল নয়া বিধায়ককে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি বানানোর জন্য টাকা পাবেন তিনি। অনেকদিন ধরেই সেই টাকা আটকে রয়েছে। তাই সেই টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে, তা জানতে চান তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েতে। কিন্তু কোনও ফল মিলল না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে চন্দনা বাউরিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ২০১৮ সালেও এই একই ঘটনা ঘটেছে তাঁর সঙ্গে। সেই সময়ও টাকা ঢোকার কথা ছিল কিন্তু তা হয়নি। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি বানাতে তিনি ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন, এরপর আর কোনও টাকা তিনি পাননি বলে জানান চন্দনা বাউরি।

চন্দনা বাউরির কথায়, তিনি পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন, কিন্তু যা বুঝলেন যে গত দশ বছর ধরেই এমন চলছে। গরীব মানুষ নিজের অধিকারের টাকা পাচ্ছেন না। নতুন বিধায়কের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের গাফিলতির জন্য গরীব মানুষ নানান প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি জানান, তাঁর এলাকাতেই কত মানুষের বাড়ির দেওয়াল পড়ে গিয়েছে, কিন্তু তা-ও আবাস যোজনার টাকার জন্য আবেদন করেও তারা টাকা পাননি।

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চায়েতের কাছে কেউ সমস্যা নিয়ে এলে বলা হয় চন্দনা বাউরির কাছে চলে যান। চন্দনা বাউরি যদি সবই দেখবে, তাহলে চন্দনা বাউরির হাতেই পঞ্চায়েত ছেড়ে দিক। আমি শালতোড়ার বিধায়ক, বিধানসভা যেমন দেখব, পঞ্চায়েতও দেখব”।

এরপরই তিনি বেশ তিতিবিরক্ত হয়েই বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধানরা যদি মনে করেন যে চন্দনা বাউরির কাছে গেলে সব সমস্যার সমাধান হবে, তাহলে আমি সব পঞ্চায়েত প্রধানকে বলতে চাই, চন্দনা বাউরিকে পঞ্চায়েতগুলো ছেড়ে দেওয়া হোক, চন্দনা বাউরি একাই সবটা দেখে নেবে”।

আরও পড়ুন- বিজেপির রাজ্য কমিটির বৈঠকে গরহাজির কৈলাস ও রাজীবের, তৃণমূলেই কী ফিরছেন রাজীব? উঠছে প্রশ্ন

চন্দনা বাউরির এই ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই যেমন রাজ্য প্রশাসনের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, তেমনি আবার অনেকেই চন্দনা বাউরির এই কথার জন্য তাঁর প্রশংসাও করেছেন।

Related Articles

Back to top button