রাজ্য

নিজে বেপাত্তা! কিন্তু ক্ষমতার জোরে স্ত্রীকে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যা বানালেন ছত্রধর!

সিপিএম আমলে জঙ্গলমহল কাঁপিয়েছেন তিনি। ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তৎকালীন সরকারের। বহু নিরপরাধীকে খুন‌ও করেছেন। তিনি জঙ্গলমহলের মাওবাদী অন্দোলনের নেতা ছত্রধর মাহাত। তৃণমূল জামানায় কিষেণজির (Kishenji) মৃত্যুর পর জঙ্গলমহলে মাওবাদী দাপট কমে যায়।

ধরা পড়তে থাকে থেকে একের পর এক মাওবাদী নেতা, নেত্রীরা। তেমনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ছত্রধর মাহাতোও (Chhatradhar Mahato)। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পেয়েই নিশ্চিন্ত আস্তানায় ঘাঁটি গাড়েন ছত্রধর। যোগ দেন তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতিতে। এবং তারপর থেকেই তার বিরুদ্ধে উঠতে থাকে একাধিক অভিযোগ। বর্তমানে অসুস্থতার খবর রটিয়ে আদালতে হাজিরাও দিচ্ছেন না তিনি।

আর এবার এই পরিস্থিতিতেই পশ্চিমবঙ্গের শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যা হলেন; ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তি মাহাতো (Niyati Mahato)। রাজ্য নারী শিশুকল্যাণ ও সমাজকল্যাণ দফতরের যুগ্ম সচিবের চিঠি; গত মঙ্গলবার লালগড়ের আমলিয়া গ্রামে পৌঁছয়। এরপর ব্লক অফিসের প্রতিনিধি মারফত; চিঠিটি ছত্রধর মাহাতোর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। নিজে ক্ষমতা পেয়ে এবার বউকেও পদ পাইয়ে দিলেন প্রাক্তন এই মাওবাদী নেতা।

রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের কমিটিতে; জায়গা পেয়েছেন ছত্রধর মাহাত। আর ২০২১ এর নির্বাচনের গোড়ায়; শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্য হলেন; ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তি মাহাতো। আগামী দশ বছর ২০৩০ অব্দি; তিনি সদস্য থাকবেন।
তবে আমজনতা থেকে বিরোধী শিবির সবার মনেই একটা প্রশ্ন একদা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিষেণজি হত্যার দায়ে দোষী করা; ছত্রধর মাহাতকে কেন‌ও এত গুরুত্ব দিচ্ছে ঘাসফুল সরকার।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে দলছুট কুর্মি সম্প্রদায়কে ভোটের আগেই আবার; নিজের দিকে টানার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রামে প্রায় ৩৪ শতাংশ; কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, এরা লোকসভা ভোটে; তৃণমূলের থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছিল। তবে স্ত্রীকে পদ পাইয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে ছত্রধর জানিয়েছেন “এটা সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত”।

Related Articles

Back to top button