সব খবর সবার আগে।

সীমান্তে শহীদ হলেই রাজ্যের তরফে মেলে ‘ফাঁকা’ চাকরির প্রতিশ্রুতি! শহীদ হয়েও কেন‌ও এমন বঞ্চনা? প্রশ্ন উরি হানায় শহীদ বাঙালি জওয়ানের পরিবারের

ভারতীয় সেনা বছরের প্রতিটা দিন সর্বক্ষণ আমাদের সুরক্ষায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা যাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি তার ব্যবস্থা করেন। ভারতীয় সেনাদের প্রতি দেশবাসী চির কৃতজ্ঞ। উরি, পাঠানকোট, পুলওয়ামা সাম্প্রতিক সব জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশের অনেক বীর সেনানী। গত সোমবার মধ্যরাতে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনার বর্বর আক্রমণে শহীদ হয়েছেন কুড়ি জন ভারতীয় সেনা। শহীদ হওয়া সেনাদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। শহীদ সেনারা যে রাজ্যের বাসিন্দা সংশ্লিষ্ট সেই রাজ্যের সরকারও যথাসাধ্য পাশে থাকে এই পরিবারদের।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জঙ্গি হামলায় শহীদ হয়েছিলেন আমাদের রাজ্যেরই দুই সেনা। দক্ষিণ ২৪ পরগণার গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতে বাড়ি উরি হামলায় শহীদ বিশ্বজিৎ ঘড়ুইয়ের। আরেকজন শহীদের নাম গঙ্গাধর দলুই, তার বাড়ি হাওড়াতে। ২০১৬ সালে যখন তারা শহীদ হয়েছিলেন তখন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা ও পরিবার পিছু একজনের সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ঠিক যেমন গালওয়ানের ঘটনায় শহীদ হওয়া রাজ্যের দুই পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে যে চার বছর কেটে গিয়েছে কিন্তু ওই দুই পরিবারের এখনও পর্যন্ত কেউ সরকারি চাকরি পায়নি। এই ঘটনা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে।

গঙ্গাসাগরের শহীদ বিশ্বজিৎ-এর টিনের বাড়ির অবস্থার কোনো রকম পরিবর্তন হয়নি। সরকার থেকে সেই সময় দু’লক্ষ টাকা পেলেও তাঁদের পরিবারে এখনও কেউ সরকারি চাকরি পায়নি। বিশ্বজিতের দাদা রণজিৎ জানিয়েছেন সেইসময়ে এলাকার বিধায়ক অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রামে ভাইয়ের নামে জিম খুলে দেওয়া হবে, ভাইয়ের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে গ্রামে, এরকমই এক ঝুড়ি গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাসক দলের সেই বিধায়ক। কিন্তু চার বছর কেটে গেল এর মধ্যে একটাও কিছু হয়নি। তিনি নিজেও সরকারি চাকরি পাননি। তাঁর ভাইয়ের নামে এখনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় কিন্তু তাঁরা নিজেরাই এখন বহু কষ্টে দিন গুজরান করছেন।

একই অবস্থা হাওড়ার শহীদ গঙ্গাধর দলুইয়ের পরিবারেরও। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে যা সাহায্য পাওয়ার তা পেয়ে গিয়েছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। ‌ কিন্তু রাজ্য সরকার দু’লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাঁর পরিবার পেয়েছেন মাত্র দেড় লক্ষ টাকা। গঙ্গাধর দলুইয়ের ভাই বরুণ দলুই সেইসময় নাবালক থাকায় তাঁকে সরকারি চাকরি দেওয়া যায়নি, রাজ্য সরকার এমনটাই জানিয়েছিল। কিন্তু তিনি সাবালক হয়ে গিয়েছেন অনেকদিন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতিমত চাকরি তিনি এখনও পাননি।

এখন প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সম্প্রতি বড় গলায় ঘোষণা করেছেন গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারতের সংঘর্ষে পশ্চিমবঙ্গের যে দু’জন সেনা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের যে কোনো একজনকে তিনি সরকারি চাকরি দেবেন তাঁদের কি আদৌ সরকারি চাকরি কোনদিনও মিলবে? নাকি তাঁদের অবস্থাও হবে উরি হামলায় শহীদ দুই জওয়ানের পরিবারের মতই?

রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে মমতা এবার একটু মানবিক হোন এই আবেদনই করছেন সকলে।

You might also like
Comments
Loading...
Share