রাজ্য

মাঝরাতেও কাজ চলছে সরকারি দফতরে, পরেশ অধিকারীকে বাঁচাতে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? প্রশ্নের মুখে শাসকদল, চাঞ্চল্য মেখলিগঞ্জে

কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ মহকুমা খাদ্য নিয়ামকের করণে মাঝরাতেও চলছে কাজ। উপস্থিত খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। সত্যিই কী কাজ নাকি তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? আধিকারিকদের এহেন কাজকর্মে প্রশ্ন উঠেছে বিরোধীদের তরফে। এই নিয়ে দফতরের সামনে রাতেই বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। ঘটনায় লেগেছে রাজনৈতিক রঙ। তবে এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি শাসকদলের তরফে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শুক্রবার মাঝরাতে। স্থানীয়রা হঠাৎই লক্ষ্য করেন যে মেখলিগঞ্জের খাদ্য নিয়ামকের করণ খোলা। রাতে দফতরে চোর ঢুকেছে বলে অনুমান করেন তারা। তবে অফিসের সামনে আসতেই সেই ভুল ভাঙে স্থানীয়দের। তারা দেখেন যে দফতর থেকে বেরিয়ে আসছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরাই। গোটা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জাগে তাদের মনে।

দফতরের সামনেই স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দফতরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তারা খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। এরপর যদিও আধিকারিকরা দফতর থেকে বেরিয়ে যান। তারা সংবাদমাধ্যমে কিছু বলতে চান নি। তবে এই ঘটনা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধীদের মনে।

ঘটনায় রাজনৈতিক আঁচও লেগেছে। বিরোধীদের দাবী, বাম জমানাতে খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পরেশ অধিকারী অনেকেই বেআইনিভাবে রেশন কার্ড করে দিয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্যই আধিকারিকরা এত রাতে দফতরে এসেছিলেন। এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় নি শাসকদল।

বলে রাখি, সম্প্রতি, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতে নাম জড়িয়েছে পরেশ অধিকারীর। শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে বেআইনিভাবে শিক্ষিকা নিযুক্ত করার বন্দোবস্ত করেন তিনি। তবে সেই মামলা ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে।

শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন অঙ্কিতা। এমনকি, তাঁর ৪৩ মাসের বেতনও দু’দফায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিবিআইয়ের কাছে একাধিকবার হাজিরাও দিয়েছেন পরেশ অধিকারী। এবার এরই মধ্যে ফের তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগও উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।

Related Articles

Back to top button