সব খবর সবার আগে।

শীতলকুচি ঘটনার ফল! ফের ক্ষমতায় এসেই কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে অপসারিত করলেন মমতা

রাজ্যের তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেই একাধিক প্রশাসনিক স্তরে রদবদল ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোপে পড়েছেন একাধিক পুলিশ কর্তারা। বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। এর থেকে বাদ যাননি কোচবিহারের পুলিশ সুপারও। প্রশাসন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শীতলকুচি ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনার জনই অপসারণ করা হল পুলিশ সুপারকে। এই গুলিকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে পারে রাজ্য, এমনটাও জানা গিয়েছে।

নির্বাচন শুরুর আগেই দিনহাটায় রহস্যজনক ভাবে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় দিনহাটা। এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সাংসদ তথা বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। এই ঘটনার পরই কোচবিহারের তৎকালীন পুলিশ সুপার কে কান্নানের উপর কোপ পড়ে। তাঁকে সরিয়ে এই পদে আনা হয় দেবাশিস ধরকে। এরপরই তৃণমূলের তরফে অভিযোগ আনা হয় যে, দেবাশিস বিজেপির হয়ে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন- ‘তাঁর দল জিতলেও, তিনি হেরেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হতে লজ্জা করে না’, মমতাকে বেলাগাম আক্রমণ বিপ্লবের

এসবের মধ্যেই চতুর্থ দফা ভোটের দিন অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল শীতলকুচি বিধানসভার অন্তর্গত জোড়পাটকির ১২৬ নং বুথে ভোটারদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে। চারজনের মৃত্যুও হয়। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্দুক ছিনতাই করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গুজবের জেরে প্রায় ১৫০ জন গ্রামবাসী ঘিরে ফেলেছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাই আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় জওয়ানরা।

কিন্তু এই যুক্তি অবশ্য মানতে রাজি হন নি তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীতলকুচিতে যান তিনি। আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফিরলে এই গুলিকাণ্ডের তদন্ত হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কোন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে।

জানা গিয়েছে, গতকাল, বুধবার শীতলকুচির ঘটনার জেরে কোচবিহারের পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে অপসারণ করা হয়। সেই জায়গায় ফের বহাল করা হয় কে কান্নানকে।

You might also like
Comments
Loading...