রাজ্য

বিধানসভায় আসন শূন্য কিন্তু তাও যায়নি মারমুখী বামপন্থা, অবরোধ তুলতে বলায় বাইক আরোহীকে চড় মারলেন সিপিএম নেতা

কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতা করে আজ, সোমবার গোটা দেশজুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল কৃষক সংগঠনগুলি। এই বন্‌ধকে সমর্থন জানায় বামেরাও। এই নিয়ে এই রাজ্যেও নানান জায়গায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বাম কর্মী-সমর্থকরা। রাস্তা অবরোধ তুলে নিতে বলেন এক বাইক আরোহী। এই নিয়ে দু’পক্ষের বচসার জেরে বাইক আরোহীকে সপাটেব চড় মেরে বসেন এক সিপিএম নেতা।

তিনি যে এই কাণ্ডের জন্য একটুও অনুতপ্ত নন, তাও ফলাও করে জানান পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায়। বদলে তিনি এলেন যে তিনি নাকি যাত্রীদের সহনশীলতার পাঠ দিয়েছেন। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে যায়।

আরও পড়ুন- কেন হামলা হল বিজেপি সাংসদের উপর, কী চলছে ভবানীপুর উপনির্বাচনে? বিকেলের মধ্যেই রিপোর্ট তলব করল কমিশন

এদিন সাতসকাল থেকেই এই বন্‌ধ কর্মসূচি পালন করতে নেমে পড়েন দুর্গাপুরের নাম নেতারা। অবরোধ চলে দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন বাঁকুড়া মোড়ে। এর জেরে নানান যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। সপ্তাহের প্রথমদিনই রাস্তায় বেরিয়ে অসুবিধার মধ্যে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। ভিড় জমে যায় সেই জায়গায়।

এই ভিড়ের মধ্যেই এক বাইক আরোহী সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের এই অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আর্জি জানান। কিন্তু তাতে আমল দেন নি তারা। এই নিয়ে বচসা শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। এরই মাঝে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় ওই বাইক আরোহীকে সপাটে চড় মারেন। এমনকি, বাম কর্মী-সমর্থকরা ওই বাইক আরোহীকে দিয়ে ক্ষমাও চাইয়ে নেন।

ভিডিও সৌজন্যে- আনন্দবাজার অনলাইন

তবে নিজের এই কাজের জন্য মোটেই অনুতপ্ত নন পঙ্কজ। উল্টে তাঁর দাবী, ‘‘আজকের বন্‌ধ ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই। এটা হঠাৎ করে ডাকা হয়নি। ফলে যাঁরা আটকে গিয়েছেন, তাঁদের সহনশীলতা দেখানো উচিত ছিল। আমরা কোথায় অবরোধ করব, তাও ঘোষিত ছিল। অনেকে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তাতে তাঁরা সফল হননি”।

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গত জুন মাসে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাকেশ টিকায়েত নবান্নে এসে মমতার সঙ্গে দেখা করেন। এই প্রসঙ্গ তুলে সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যকে প্রশ্ন করা হলে পঙ্কজ বলেন, “চোলি কা পিছে কুছ হ্যায়”।

আরও পড়ুন- কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবীতে কৃষক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে সামিল বামেরা, রাজ্যের নানান প্রান্তে প্রতিবাদ, যাদবপুরে রেল রোকো বিক্ষোভ

বামনেতার এমন পঙ্কজের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের নেতা তথা দুর্গাপুরের বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন থেকে কৃষকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন। আমরা সর্বান্তঃকরণে ওই আন্দোলনকে সমর্থন করেছি। যিনি এই মন্তব্য করেছেন এটা তাঁর বিকৃত মস্তিষ্কের লক্ষণ”।

Related Articles

Back to top button