সব খবর সবার আগে।

শাসক বটে! টাকা চুরির পর টিকা চুরি, দুর্নীতিতে লাগামহীন তৃণমূলীরা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা প্রতিষেধক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা অর্থাৎ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই এই টিকা পাবেন। কিন্তু, গতকাল অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বর এই টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলায় ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। ‘হাসপাতাল রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য’ এই অজুহাতে; ডাক্তার নার্সদের জন্য বরাদ্দ করোনা প্রতিষেধক নিয়ে নেন; একের পর এক তৃণমূল নেতা বিধায়করা

আর এই ‘টিকা চুরি’ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা। “আমফানের চাল ও টাকা চুরির পর করোনা টিকা চুরি; তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক”; একযোগে এই অভিযোগে মুখ খুলেছেন; বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ ও বাবুল সুপ্রিয়’র মতো তাবড় বিজেপি নেতারা।

প্রসঙ্গত, করোনার টিকা প্রাপকদের মধ্যে রাজ্যে প্রথম দিনই ঢুকে পড়েছেন কিছু জনপ্রতিনিধি তথা রাজনৈতিক নেতা। যাঁদের এই পর্যায়ে টিকা পাওয়ার কথা নয় বলে সরকারি ভাবেই জানানো হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে দুই বিধায়ককে নিয়ে বিতর্ক, তাঁদের এক জন, কাটোয়ার বিধায়ক সেই রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমার কাছে এসএমএস এসেছিল। তার পরেই শনিবার আমি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছি।’ আর এক জন বিধায়ক ভাতারের সুভাষ মণ্ডল নিজের সমর্থনে মুখ খুলে জানিয়েছেন, ‘আমাকে ভাতারের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ফোন করে জানিয়েছিলেন, আমার নাম টিকা প্রাপকদের তালিকায় রয়েছে। তাই, শনিবার সকালে আমি টিকা নিয়েছি।’

আর এই দুই তৃণমূল বিধায়ক টিকা নেওয়ার পর‌ই বঙ্গ রাজনীতিতে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তেজনা তিনগুণ বেড়ে গেছে। টিকা চুরি নিয়ে শাসককে বিদ্ধ করতে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘করোনা যোদ্ধাদের জন্য এখন টিকা দেওয়া হচ্ছে। অথচ সেখানেও তৃণমূল চুরি করতে নেমে পড়েছে।’ আবার বিজেপির এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়’র কথায়, ‘রাজ্য সরকার এখন চুরি করছে। ত্রিপল, চালের পর এবার ভ্যাকসিন। তৃণমূল দলটাই শুধু চোরে ভরতি। কেন্দ্র বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিচ্ছে, অথচ রাজ্য সেটাও নিজের নামে চালাতে চাইছেন।’

ফলে, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং ঘটনাচক্রে এই টিকা প্রাপকরা সবাই শাসকদল তৃণমূলের হওয়ায় বিরোধী দল বিজেপি এই বিষয়টাকে হাতিয়ার করতে ছাড়েনি। প্রশ্ন উঠেছে, বাগদার বিডিও জ্যোতিপ্রকাশ হালদার কেন‌ও করোনা-টিকা পেলেন, তা নিয়েও। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর নাম শনিবারের টিকা প্রাপকদের তালিকায় ছিল। তবে বিতর্ক এড়াতে শেষমেশ সৌরভ টিকা নিতে যাননি।

এই হাঙ্গামার মাঝেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা করোনা-ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি জানি না, নিয়েছে কি না। নিয়ে থাকলে ভুল করেছে। টিকা নেওয়ার কথা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। আমি যতদূর জানি, তাঁরাই টিকা নিয়েছেন।’

স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষকর্তার কথায়‌,  ‘ নাম নথিভুক্তিকরণের গোটা প্রক্রিয়া অনলাইনে হয়নি। হলে প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসাকর্মী নন, এমন কারও নাম তালিকাভুক্ত হওয়া মুশকিল ছিল। হয়তো অফলাইনে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ স্থানীয় স্তরে প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম ঢুকিয়ে ফেলতেও পারেন।’

_taboola.push({mode:'thumbnails-a', container:'taboola-below-article', placement:'below-article', target_type: 'mix'}); window._taboola = window._taboola || []; _taboola.push({mode:'thumbnails-rr', container:'taboola-below-article-second', placement:'below-article-2nd', target_type: 'mix'});
You might also like
Comments
Loading...