সব খবর সবার আগে।

‘বহিরাগত’ কে ডি সিং-কে নিয়ে বিপদের মুখে তৃণমূল, শাসকদলকে তীব্র তোপ দিলীপের

গতকালই বেআইনি অর্থ লেনদেনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন অ্যালকেমিস্ট কর্তা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কে ডি সিং। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে একহাত নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব কে ডি সিং-এর উপরও বর্তায় কী না, এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নির্বাচনের আগে এ হেন ঘটনায় বেশ নাজেহাল শাসক দল।

এই বিষয়ে একটি টুইট করে দিলীপ ঘোষ লিখেছেন, “অ্যালকেমিস্ট চিটফান্ড মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন বহিরাগত তৃণমূল সাংসদ কে ডি সিং। ২০১৪-২০২০ পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিতে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে অবৈধভাবে টাকা তোলা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও বিদেশে টাকা পাচার করার”।

তবে এদিকে কে ডি সিংকে গ্রেফতার করার ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হবে কী না, এ নিয়ে সংশয়ে পড়েছে তৃণমূল। তবে নারদা কেলেঙ্কারি কারিগরকে রেয়াত করবে না শাসকদল, এমনটাই জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপদ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় বাড়তি কোনও শব্দ খরচ করতে নারাজ তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতারা।

তবে দলের একাংশ মনে করছেন ইডি-সিবিআইকে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “অতীতেও বারবার কে ডি সিং-এর নাম উঠেছে। সুদীপ্ত সেন যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে বলেছেন মুকুল রায় ইজ দ্য ম্যান অফ অ্যালকেমিস্ট। মুকুল রায় দলকে বুঝিয়ে কে ডি সিং-কে তৃণমূলে আনে। অবিলম্বে মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা উচিত”। মুকুল রায়কে শানিয়ে কুণালের দাবী, এই সব কিছু বাঁচতে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি এও বলেন যে, “কে ডি সিং যদি বেআইনি কিছু করে থাকে তা আইন বুঝবে। কিন্তু ইডি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে থাকে, তবে আমরা প্রতিবাদ জানাব”।

উল্লেখ্য, অতীতে নানান কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীকে ‘বহিরাগত’ বলে দেগেছে তৃণমূল। আগামী নির্বাচনে বাঙালি সত্ত্বাকেই হাতিয়ার বানাতে চেয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এখন কে ডি সিং-এর গ্রেফতারির জেরে কার্যত ভেস্তে গেল তৃণমূলের সব পরিকল্পনা। বিজেপির দাবী, কে ডি সিংও তো রাজ্যের বাইরের লোক, তবে কী শুধু টাকার জন্যই তাঁকে সাংসদের টাকা দেওয়া হয়েছিল, এই প্রশ্নই উঠছে বারবার।

You might also like
Comments
Loading...