রাজ্য

‘কমিউনিস্টরা কাঁকড়ার মতো, কাউকে ওপরে উঠতে দেয় না, জ্যোতিবাবুকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি’, বুদ্ধদেবের পদ্ম সম্মান ফেরানোর প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ

কমিউনিস্টরা কাঁকড়ার মতো। তারা কাউকে ওপরে উঠতে দেয় না। জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয় নি। বুদ্ধদেবকে পদ্মসম্মান নিতে দিল না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পদ্মভূষণ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আজ, বৃহস্পতিবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে বুদ্ধবাবুর পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওঁ শুধু রাজনীতিক নন । সাহিত্যিকও বটে। শুরুতেই দল বলে দিল, নেওয়া যাবে না। ওঁ দলীয় অনুশাসন মেনে চলেন। তাই ওঁ নিতে অস্বীকার করলেন”।

এই বিষয়ে তিনি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সোমনাথবাবুও একই ঘটনার স্বীকার। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে বাড়িতে দলের নেতাদের ঢুকতে দেননি। এটা ভুলে যাবেন না”।

পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় রাজনীতিতে বেশ হইচই ফেলে দিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখনও শয্যাশায়ী, অশক্ত। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিতে যেতে পারেন নি তিনি। পদ্ম সম্মান ফিরিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলে দিয়েছেন তিনি।

গত ২৫শে জানুয়ারি পদ্ম প্রাপকদের তালিকায় নাম প্রকাশ হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। বাবরি ধ্বংসের পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর বই লিখেছিলেন, নাম ‘দুঃসময়’। এই বইতে বিজেপির ঘোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সেই বিজেপি সরকার তাঁকে পদ্ম সম্মান দিচ্ছে। এই ঘোষণায় জাতীয় রাজনীতিতে হইচই পড়ে যায়। তবে ২৫ জানুয়ারি রাতেই বুদ্ধবাবু বিবৃতি দিয়ে জানান, “পদ্ম সম্মান নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে এই নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। পদ্মভূষণ দেওয়া হলে, তা প্রত্যাখ্যান করছি”।

এরপরই বিমান বসু সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন, “এই প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই”। উল্লেখ্য, অতীতে জ্যোতি বসুকেও ভারত রত্ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তিনিও সেই সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবার প্রশ্ন উঠছে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম পদ্ম প্রাপকদের তালিকায় কীভাবে পৌঁছল? তাঁর সম্মতি না নিয়েই কী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে?

কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবী, গত ২৫শে জানুয়ারি বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিক বুদ্ধদেববাবুর বাড়িতে ফোন করেন। কথা হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে। জানা যায়, তিনি নেতিবাচক কিছু বলেন নি। এরপর ওই আধিকারিক তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন রেখে দেন। এই বিষয়ে সিপিএমের দাবী, তাদের রীতিই হল রাষ্ট্রের কাছ থেক এই ধরণের সম্মান প্রত্যাখ্যান করা।

Related Articles

Back to top button