রাজ্য

‘আপাদমস্তকই তো দুর্নীতির কালি, মাথা উঁচু করেই জেলে চলে যান’, কয়লা পাচারকাণ্ডে ইডির সমন নিয়ে অভিষেককে খোঁচা দিলীপের

কয়লা পাচারকাণ্ডে ফের একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমন পাঠিয়েছিল ইডি। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে দিল্লি হাইকোর্ট ও তারপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও কোনও লাভ হয়নি। ফলে আজ, সোমবার নির্দিষ্ট সময়মতোই ইডির দফতরে হাজিরা দেন অভিষেক ও রুজিরা। এবার ইডির সমন পাঠানো নিয়ে অভিষেককে বেলাগাম আক্রমণ শানালেন দিলীপ ঘোষ।

অভিষেককে খোঁচা দিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বলেন, “মাথা উঁচু করেই জেলে যান। সেটাও দেখতে চায় লোকে। যাদের আপাদমস্তক দুর্নীতির কালি লেগে আছে, কোনও কিছুই বাদ নেই। কয়লা পাচার, গরু পাচার, বালি পাচার, পাথর পাচার সব কিছুতেই যাদের নাম জড়িয়ে আছে, সেই সব লোকেদের বড় বড় কথা সাজে না। ইডি তলব করেছে, নির্দোষ প্রমাণ হয়ে আসুন”।

দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণের পর চুপ নেই শাসকদলও। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ চেহারা নিয়েই দিলীপবাবুদের দল বিজেপি কজা করছে ও দিলীপ বাবুরা ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন। কাউকে ডাকলেই বা কাউকে হেনস্তা করা শুরু হলেই, যতক্ষণ না কোনও দোষ প্রমাণিত হচ্ছে তিনি অপরাধী হন না। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা বিজেপিতে নাম লেখালেই তদন্তটা বন্ধ হয়ে যায়। নারদা এবং সারদা কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা সত্ত্বেও কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না শুভেন্দু অধিকারীকে?”

প্রসঙ্গত, আজ, সোমবার নির্দিষ্ট সময়েই ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছেন সস্ত্রীক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এর আগে ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল্লির হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু সেখানে তাঁর মামলা গৃহীতই হয়নি। এর ফলে ইডির দফতরে হাজিরা দিতেই হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।

বলে রাখি, ইডির সমন পেয়ে গতকাল, রবিবারই দিল্লি উড়ে যান অভিষেক। যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে এর নেপথ্যে বিজেপিরই চক্রান্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ।

এদিন দিল্লি যাওয়ার আগেও অভিষেক বলেন, “মাথা নত করার প্রশ্নই আসছে না। বাংলায় ওরা হেরে গিয়েছে। তাই গায়ের জ্বালায় এসব করছে। এসব করে কি আর বাংলার মানুষকে বোকা বানাতে পারবে ওরা”।

Related Articles

Back to top button