রাজ্য

‘দস্যু রত্নাকরের পাপের ভাগই তার পরিবার নেয়নি, অনুব্রতর পাপের ভাগ কে নেবে? পার্টি তো নেবেই না’, ফের অনুব্রতকে তোপ দিলীপের

গরু পাচার কাণ্ডে (cattle smuggling case) বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। বাম থেকে রাম, কেউই কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি শাসক দলকে। আসানসোলে তো অনুব্রতর গ্রেফতারির পর বাম-বিজেপি (CPM-BJP) ঐক্যও চোখে পড়ে। একজোটে উল্লাসে সামিল হতে দেখা যায় বাম ও বিজেপি নেতা-কর্মীদের।

অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর নানা বিরোধী শীর্ষ নেতারা একের পর এক কটাক্ষ, আক্রমণ করেছেন শাসক শিবিরকে। প্রবল চাপে তৃণমূল। এবার ফের একবার অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতার নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আজ, শনিবার নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে যান তিনি। সেখানে বিএসএফের পক্ষ থেকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই অনুব্রতকে কটাক্ষ শানান দিলীপ ঘোষ।

তৃণমূলের একটি সংগঠন বিজেপির হেড অফিস ঘেরাও করবে বলে শোনা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “‌ওইটুকুই করতে পারবে। সুদীপ দাকে যখন নিয়ে গিয়েছিল তখন পরেশ পাল আমাদের বাড়িতে ঢিল মেরেছিল। ওদের দৌড় এইটুকুই। যারা আসছে ছেলেপুলেরা তাদেরকে বলছি চোর–ডাকাতের পিছনে যাবেন না। নিজের ভবিষ্যৎ এবং বাংলার ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। তাহলে লোকেরা আপনাকেও জুতো নিয়ে তারা করবে। সমস্ত পার্টিটা দুর্নীতিতে ছেয়ে গিয়েছে। দুর্নীতির দল হয়ে গিয়েছে তাদের কথা কে শুনবে”।

এদিকে, কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারী হর ঘর তিরাঙ্গা মিছিলে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি অমিত শাহকে নালিশ করেছেন। এই বিষয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “‌আমি জানি না কেন বাধা দিচ্ছে। এরা খালি দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, দেশ বিরোধীও বটে। সারা ভারতবর্ষ জুড়ে তিরঙ্গা যাত্রা হচ্ছে, বাংলাতেও হবে। ওরা যদি মনে করে বাধা দিয়ে আটকে দেবে তাহলে ভুল ভাবছে। কাশ্মীর যদি ঠান্ডা হয়ে থাকে বাংলাকেও ঠান্ডা করতে খুব বেশিদিন লাগবে না। পার্টিটাই উঠে যাবে সরকার পড়ে যাবে”।

এরপরই অনুব্রতর গ্রেফতারি নিয়ে দিলীপ বলেন, “বীরভূমের তৃণমূল নেতারা বিরোধীদের মাজা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কে কার মাজা ভাঙে দেখা যাবে। পার্টিরই মাজা ভেঙে যাচ্ছে, মানুষের করবে কি। মানুষকে অত্যাচার করেছিল বলেই মানুষ আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে গরু চোর গরু চোর বলছে”।

এখানেই শেষ নয়। তাঁর আরও সংযোজন, “আমাদের রামায়ণে আছে রত্না কর যখন দস্যু ছিল মানুষকে হত্যা করে পরিবার চালাত। তখন ব্রহ্মা বিষ্ণুরা এসে বলেছিল তুমি পাপ করেছ, তোমার পাপের ভাগী কে হবে?‌ তোমার পাপের ভাগ কি পরিবার নেবে?‌ পরিবার বলেছিল, আমাদের পোষার দায়িত্ব তোমার। তার পরিবারই তার পাপের ভাগ নেয়নি। আর এতো কোথাকার কে অনুব্রত মণ্ডল। চুরি করেছেন বাড়ি ঘর করেছেন, মিল করেছেন, কলেজ করেছেন— তার পাপের ভাগ কে নেবে?‌ তার পরিবারই নেবে না। পার্টি তো নেবেই না”।

Related Articles

Back to top button