সব খবর সবার আগে।

একদা শুভেন্দু গড়ে জিতিয়েছিলেন কাস্তে-হাতুড়িকে! সেই বাম নেতা শ্যামল মাইতি’ই এবার যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। বিহার নির্বাচন শেষে বাংলা নির্বাচনী নজর দেশের। ব্যাপকহারে চলছে রং বদল, দলবদলের রাজনীতি। কিছু হাইভোল্টেজ নেতার দলবদল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এরই মাঝে ঘটলো একটি চমকপ্রদ দলবদল। শ্যামল মাইতি। তিনি সিপিএমের দাপুটে নেতা। একার কাঁধে শুভেন্দু গড়ে জিতেছিলেন কাস্তে-হাতুড়ি কে। এবার তিনিই দলের প্রতি ক্ষোভ থেকে যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে। শ্যামলের হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ভরা তৃণমূল কংগ্রেসের বাজারে দলবদলের ‘সুযোগ’ ছিল। কিন্তু স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘মরে গেলেও তৃণমূল করব না।’

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। লেজে গোবরে অবস্থা হয় সিপিআইএমের। রাজ্যে ২০১১ সালে মসনদ পরিবর্তনের পর অবস্থা আরও অবনতি হয়। কোনওক্রমে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখছিল সিপিআইএম। জেলায় তখন অধিকারীদের দাপট। সেই অবস্থায় কার্যত একাহাতে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীদের ডেরা থেকে সিপিআইএমকে জিতিয়ে এনেছিলেন সিপিএমের তৎকালীন হলদিয়া শহর (দক্ষিণ) জোনাল কমিটির সম্পাদক শ্যামল মাইতি। হলদিয়া আসনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জিতেছিলেন বাম প্রার্থী তাপসী মণ্ডল। ২০১১ সালে যে আসন গিয়েছিল তৃণমূলের ঝুলিতে।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মারাত্মক। তমলুক লোকসভা আসনের উপ-নির্বাচনের আগে ধর্ষণের অভিযোগে শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও সিপিআইএমের অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএমের প্রত্যাবর্তনের কারণে আশঙ্কার দোলাচলে ভুগছিল তৃণমূল। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিতার্থ করতেই শ্যামলকে ‘ভুয়ো’ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা।

পরে অবশ্য রাজনৈতিক পটভূমি উল্টোতে থাকে। দলের ব্যবহারে ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে ওঠেন শ্যামল। মানভঞ্জনে শ্যামলের বাড়িতে গিয়েছিলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রনর্তী। যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাতে অবশ্য কোনও লাভ হয়নি। বরং নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শ্যামল বলেছিলেন, ‘দলের হয়ে এত কাজ করেছি। জেলও খেটেছি। সেই আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে।’

তবে শ্যামলের পাহাড়প্রমাণ ক্ষোভ দমন করতে ব্যর্থ হয় বাম শিবির। আর সেই জায়গাতেই ফায়দা লোটে বিজেপি। ফলস্বরূপ আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে বড়সড় ‘ছক্কা’ হাঁকাল বিজেপি।

_taboola.push({mode:'thumbnails-a', container:'taboola-below-article', placement:'below-article', target_type: 'mix'}); window._taboola = window._taboola || []; _taboola.push({mode:'thumbnails-rr', container:'taboola-below-article-second', placement:'below-article-2nd', target_type: 'mix'});
You might also like
Comments
Loading...