রাজ্য

‘সরকার ফুর্তি, মোচ্ছব করছে, বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেই’, ক্লাবগুলিকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুদানের সিদ্ধান্তে কর্মবিরতির ঘোষণা রাজ্য সরকারি কর্মীদের

একের পর এক দুর্নীতির (corruption) জেরে বিদ্ধ রাজ্য সরকার। নানান দুর্নীতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতাদের নাম উঠে এসেছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এই নিয়ে শাসক দলকে তোপ দাগতে ছাড়ে নি বিরোধী দলগুলি।

এমন আবহে গতকাল, সোমবার ৪৩ হাজার ক্লাবকে দুর্গাপুজোর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই-ই নয়, বিদ্যুতের বিলেও ৬০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু অন্যদিকে, বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে নারাজ রাজ্য। এই নিয়ে এবার বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি শাসক দলকে কটাক্ষ শানাতে বাদ গেলেন না রাজ্য সরকারি কর্মীরাও।

বলে রাখি, গত দু’বছর ক্লাবগুলিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অনুদান দিলেও এই বছর ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য। এরপরই বকেয়া ডিএ-র প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “বাংলার পরিস্থিতি বর্তমানে রোমান সাম্রাজ্যের মতো হয়ে গিয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিকরা বর্তমানে তাদের প্রজাদের আমোদ এবং নেশায় ডুবিয়ে রাখার চেষ্টায় রয়েছে। লুঠ এবং দুর্নীতির হাত থেকে সকলের নজর ঘোরানোর জন্য এই আয়োজন। ধর্মীয় উৎসবকে বর্তমানে সরকার কাজে লাগানোর রাজনীতিতে মত্ত”।

তিনি আরও বলেন, “অতীতে ক্লাব সংস্কৃতি স্বনির্ভর থাকলেও বর্তমানে সরকার তাদের নির্ভরশীলতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে বকেয়া ডিএ পড়ে রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার”।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরাও। বামপন্থী সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের তরফে আগামী ৩০শে আগস্ট সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে দু’ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দু’ঘণ্টা কর্মবিরতি রাখবেন তারা। এই প্রসঙ্গে সংগঠনের এক নেতা বলেন, “সরকার উৎসব, ফুর্তি ও মোচ্ছব নিয়ে চলছে। আমাদের ডিএ বাকি থাকলেও সেই নিয়ে কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাব”।

তৃণমূলের এই অনুদানের বিষয়ে খুলে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যে উন্নয়নের দেখা না থাকলেও অনুদানে কোন ঘাটতি নেই। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হয় না, হাসপাতাল থেকে শুরু করে অন্যান্য একাধিক ক্ষেত্রে টাকার অভাব। তা সত্ত্বেও ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করছে সরকার। বর্তমানে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তার থেকে ক্লাব তাদের কখনোই বাঁচাতে পারবে না”।

Related Articles

Back to top button