সব খবর সবার আগে।

গুরুং এখন তৃণমূলের সাথে, তাহলে মমতার হাত ধরেই হচ্ছে বঙ্গভঙ্গ?

তবে কি বাংলা ভাগ হতে চলেছে? এবার বিমল গুরুং এনডিএ ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করেছেন। এই নিয়েই আজ দিনভর চলছে আলোচনা। এটাকেই বলে রাজনীতি। পাহাড়ে আবার রাজনীতির পাশা বদলাল। যে বিমল গুরুং এর বিরুদ্ধে মমতা সরকার একসময় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছিল, পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিক খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তাকে সাদরে অভিবাদন জানাচ্ছে তৃণমূল সরকার! কলকাতার অভিজাত হোটেলে বসে আজ বিমল গুরুং ঘোষণা করলেন যে তিনি এনডিএ ছেড়ে মমতা সরকারের সঙ্গে জোট বাঁধতে চলেছেন!

স্বাভাবিকভাবে গোটা ঘটনার মোড় এখন অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছে এবং আজ সারাদিন ভারতের রাজনীতি চর্চায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিমল গুরুং বিজেপি ছেড়ে এখন তৃণমূলে শরণাপন্ন হয়েছেন। আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে যে এবার হয়তো গোর্খাল্যান্ড নিয়ে বিমল গুরুং মমতা সরকারের কাছে তদ্বির করতে শুরু করতে পারেন এবং পরবর্তীকালে আমাদের বাংলা ভাগ হতে চলেছে।

বিমল গুরুং একাধিক মামলায় জর্জরিত হয়ে এবং খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হয়ে যখন ফেরার ছিলেন যাচ্ছিল তিনি নাকি বিজেপির আশ্রয় ছিলেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে যদি সত্যিই তিনি বিজেপির আশ্রয় থাকতেন তাহলে হঠাৎ এখন মমতা সরকারের কাছে আসছেন কেন? তবে কি তিনি বুঝতে পেরেছেন যে বাংলা ভাগ করার তার যে প্রচেষ্টা তার জন্য বিজেপি তাকে কখনোই সাহায্য করবে না? প্রশ্ন করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আজ তিনি যেন সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। বলেই ফেললেন যে বিগত ১২ বছর ধরে লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী কে সমর্থন করছে কিন্তু আমরা কী পেয়েছি?স্বাভাবিকভাবেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা এই আমরা হল যারা গোর্খাল্যান্ড চান সেই মানুষরা।

এরপরেই গুরুং বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সকলেই আশ্বাস দিয়েছিলেন গোর্খাল্যান্ডের দাবির স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে। ভোট ইস্তেহারেও সে কথা লিখেছিলেন। কিন্তু গত ৬ বছরে কিছুই তো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে শুধু বলেন, ‘দেখছি’, ‘হবে’। তুলনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বরং ভাল। উনি আমাদের কথা শুনেছিলেন। তার পর কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন।”

এখানেই এবার ওয়াকিবহাল মহলের সন্দেহ সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত গুণগান গাওয়ার আসল কারণ আবার গোর্খাল্যান্ডের জন্য দাবি দাওয়া শুরু করতে চলেছেন বিমল গুরুং। ২০২১ সালের নির্বাচন এখন তৃণমূল সরকারের বড় মাথা ব্যথা। সেই ব্যথাতেই প্রলেপ দিতে আজ গুরু ঘোষণা করলেন যে, “আমি এই অঙ্গীকার করছি যে একুশের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে ভোট লড়ব। সেই সঙ্গে গোর্খাল্যাণ্ডের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করব।”

কিন্তু তার বিরুদ্ধে তো ইউপিএ ধারায় মামলা রয়েছে, তিনি তো খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তাহলে তিনি কলকাতায় সবার সামনে বসে সাংবাদিক বৈঠক কী করে করছেন? পুলিশ তাকে ধরছেনা? গুরুং জানিয়ে দেন যে, তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী, কোন অন্যায় করেননি তাই তাকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। তবে এরপরে যদি তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তিনি জেল থেকে নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন। বস্তুত গুরুংয়ের দ্বিচারিতা এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে সেই সঙ্গে শাসকদলের এই ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত যে নীরবতা দেখা যাচ্ছে তা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

একমাস আগে থেকেই জল্পনা চলছিল যে গুরুং তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন কারণ তার সঙ্গে তৃণমূলের কথাবার্তা চলছে তবে তখন সেই কথা তিনি বেমালুম অস্বীকার করেন। তবে সেই কথা যে মিথ্যা ছিল না তা আজ প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।

অনেকেই বলছেন ভোট যে এত বড় বালাই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিজের মুখ্যমন্ত্রীত্ব ধরে রাখার জন্য এতটা নির্লজ্জ ভাবে মরিয়া হয়ে উঠবেন তা আগে বোঝা যায়নি। শেষে কিনা ভোটে জেতার জন্য বিমল গুরুং এর মতো একজন অপরাধীর সঙ্গে জোট বাঁধতে হচ্ছে তৃণমূলকে? বিরোধীরা কটাক্ষ করে প্রশ্ন করছেন মমতাকে।

You might also like
Comments
Loading...