সব খবর সবার আগে।

ত্রাণবিলির নামে সুন্দরবনে ভ্রমণে আসছেন পর্যটকরা! বাড়ছে করোনা আতঙ্ক, কড়া হচ্ছে প্রশাসন

করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রাজ্যে আছড়ে পরে ঘূর্ণিঝড় যশ। আর এরপর থেকেই উপকূলবর্তী মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারকা থেকে সাধারণ মানুষ। দীঘা থেকে সুন্দরবন বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলার একাংশ।

আর এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এই ত্রাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু এই বিপুল পরিমান ত্রাণ বিলির মধ্যেই এবার দেখা দিয়েছে করোনা আতঙ্ক। এত মানুষের সমাগমে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনাভাইরাস।

আর‌ও পড়ুন- আজই তৃণমূলে যোগ দেবেন মুকুল রায়! কালীঘাটে সাক্ষাৎ মমতার সঙ্গে, এরপর গন্তব্য তৃণমূল ভবন

সেইসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, শুধু ত্রাণ বিলিই নয়, এই নাম করে বেশ কিছু মানুষ পর্যটনে বেরিয়ে পড়েছেন। এই অভিযোগ উঠছে সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায়। করোনাকালে এত মানুষের সমাগম রুখতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

যেমন গতকালই দেখা মেলে শ’‌দেড়েকের একটি দলের। যাঁরা ত্রাণ বিলি করতে এসেছে গোসাবায়। তখন তা দেখতে পেয়েই ভুটভুটি দাঁড় করিয়ে তাঁদের সতর্ক করেন গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র।

গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন আসেন গোসাবায় ত্রাণ দিতে। ত্রাণ দিতে লোকবল প্রয়োজন। তাই এত লোক নিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু বিডিওর কথায়, ‘এতগুলি মানুষ একসঙ্গে একটি ভুটভুটিতে উঠলে বিপদ হতে পারে। তার উপর করোনা পরিস্থিতির কথাও মাথায় রাখতে হবে। তাই ওদের সতর্ক করা হল।’‌ আর জাহাঙ্গির বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ কষ্টে আছেন। তাই আমরা এঁদের সাহায্য করতে ত্রাণ দিতে এসেছি।’‌

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যশ দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুকনো খাবার, জল, চাল, ডাল, বিস্কুট ও অন্যান্য আবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে আসছেন সুন্দরবনে। তারপর এই ত্রাণ বিলির নামে সুন্দরবনে ভ্রমণ করছেন। করোনার অনাগত তৃতীয় ও বর্তমান দ্বিতীয় সংকটের মাঝে যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘাটে ঘাটে পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে নদীবক্ষে চলছে মাইকিং।

তবে ত্রাণ বিলির এই ব্যাপক উচ্ছাস নিয়ে মানুষের সুন্দরবন ভ্রমণে ক্ষুব্ধ প্রশাসনের একাংশ। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বিধিননিষেধ মেনে ত্রাণ দিতে আসা এক-একটি দলে পাঁচজনের বেশি লোক যাতে না থাকে তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...