রাজ্য

মানবিক! টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিলেন না গরীব বাবা, উদ্ধারকর্তা হলেন থানার আইসি, নিজেই করলেন কন্যাদান

মেয়ের বিয়ের ঠিক হয়েছে কিন্তু বিয়েটা হবে কী করে? টাকা তো নেই। গরীব বাবাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন বানারহাট থানার আইসি। মানবিক এই পুলিশ অফিসার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দিলেন বিয়ে। এমনকি, করলে কন্যাদানও। বিয়ের পর ছিল প্রীতিভোজও। সবকিছুই আয়োজন করা হয় জলপাইগুড়ির বানারহাট থানার আইসি ও তাঁর টিমের নেতৃত্বে।

জানা গিয়েছে, গয়েরকাটা এলাকার বাসিন্দা দিলীপ ভাওয়াল পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। বয়সের জন্য শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান রোগ। এর ফলে এখন আর ঠিক করে কাজও করতে পারেন না। কোনও মতে ১০০ দিনের কাজ করে সংসার চালান তিনি।

কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে ১০০ দিনের টাকাও পাচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে আবার মেয়ে স্মৃতিকার বিয়ে ঠিক হয় জলপাইগুড়ির শান্তিপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে। তিনি পেশায় এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী। ভালো পাত্র পেয়ে হাতছাড়া করতে চান নি দিলীপবাবু। কিন্তু বিয়ের খরচ কীভাবে বহন করবেন তা ভাবতেই পারছিলেন না তিনি।

মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর। এই নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীরাও চিন্তিত ছিলেন। তারাই উদ্যোগ নিয়ে এই বিষয়টি জানান বানারহাট থানার ট্র্যাফিক গার্ড অফিসে। সেখান থেকে এই খবর যায় থানার আইসি শান্তনু সরকারের কাছে। এরপরই তিনি এই বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়েতের যাতে কোনও খামতি না থাকে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয় ট্র্যাফিক থানার নানান আধিকারিকদের। শেষ পর্যন্ত গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে দিলীপবাবুর মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে স্মৃতিকা ও কৃষ্ণের চারহাত এক করেন শান্তনু সরকার। নিজেই করেন কন্যাদানও। বিয়ের পর ছিল প্রীতিভোজের ব্যবস্থাও।

এই প্রসঙ্গে আইসি শান্তনু সরকার বলেন, “আমার পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব স্মৃতিকার বিয়েতে সাহায্য করেছি। কন্যা সম্প্রদানও করেছি। এভাবেই মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়াক এটাই চাই। ওরা দু’জনে সুখে সংসার করুক”।  

এভাবে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে হবে, তা যেন ভাবতেই পারেন নি দিলীপবাবু নিজে। তিনি বলেন, “পুলিশকে আমার দেবদূত বলে মনে হচ্ছে। এদের সাহায্য ছাড়া আমি মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম না। কারণ আমার প্রতিদিনের কোনও কাজ নেই। ১০০ দিনের কাজ করে যা কামাই করি তাতে সংসার টানাই দায়। মেয়ের বিয়ে ঠিক হলেও কিছুতেই যখন বিয়ের আয়োজন করতে পারছিলাম না তখন এগিয়ে আসে পুলিশ ও এলাকাবাসী। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ”।

Related Articles

Back to top button