সব খবর সবার আগে।

দৈনিক করোনা পরীক্ষায় ডাহা ফেল বাংলা, পরিসংখ্যানে অনেক এগিয়ে উত্তর প্রদেশ-বিহার-আসাম!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই প্রচার করুন না কেন যে এগিয়ে বাংলা, কিন্তু বর্তমানে করোনা স্যাম্পল পরীক্ষায় যে বাংলা ঢের পিছিয়ে তা ফের আরেকবার প্রমাণিত হয়ে গেল।সম্প্রতি এই রাজ্যের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর কুনাল সরকার একটি পরিসংখ্যান নিয়েছেন যেখানে জানা যাচ্ছে বর্তমানে রাজ্যে প্রতিদিন মাত্র ৪৩ হাজার করে করোন স্যাম্পল টেস্ট হচ্ছে। যা প্রতিদিন কমপক্ষে এক লক্ষ হওয়া উচিত।

কিন্তু আমাদের রাজ্য সরকারের সেইদিকে হুঁশ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ব্যস্ত এই চিন্তায় যে, কী করে দুর্গাপূজাকে জাঁকজমক সহকারে পড়ে বাঙালিকে তাক লাগিয়ে দেওয়া যায়! যা করতে গিয়ে আখেরে তিনি কিন্তু এই রাজ্যের মানুষদেরই সর্বনাশ ডেকে আনছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বারংবার বিভিন্ন সভায় বলে যাচ্ছেন, “উত্তর প্রদেশ ,আসাম তো দুর্গাপূজার অনুমতিই দেয়নি, আমরা দিয়েছি কারণ এটা আমাদের জাতীয় উৎসব।”

কিন্তু তিনি যে এত অনুমতি, ছাড়পত্র, অনুদান দিয়ে রাজ্যকে পুরো বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তা যেন বুঝতে পারছেন না। তারা এখনো পুজো শুরু হতে এক সপ্তাহ বাকি, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা আতঙ্কে কাঁটা হয়ে রয়েছেন যে পুজোর পরে বাংলায় অবস্থাটা কী হয়ে দাঁড়াবে। মমতা যে রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে বারংবার বলছেন আসুন দেখে নেওয়া যাক সেই রাজ্যের দৈনিক কত করে করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হচ্ছে তাহলে বুঝতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাঁওতাবাজি।

প্রথমেই বলি পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান। এখনো পর্যন্ত বাংলায় মোট ৩৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৯৩টি করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছে। এবার বাকি তিনটি রাজ্যের পরিসংখ্যানে আসা যাক। প্রথমেই শুরু করা যাক উত্তর প্রদেশ দিয়ে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৯২ হাজার ৬১৯টি করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও গত ১৩ই সেপ্টেম্বর একদিনে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮২ টি স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছিল। মনে রাখবেন উত্তর প্রদেশের জনসংখ্যা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার থেকে অনেক বেশি।

এবার আসা যাক বিহারে। নীতীশ কুমারের সরকার দ্বারা পরিচালিত বিহারে এখনো পর্যন্ত ৮৫ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৩৭ টি করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হয়ে গিয়েছে। এই রাজ্যে গত ২০শে সেপ্টেম্বর একদিনে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫১১ টি করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছিল।

এবার আসা যাক আসামে। আসামে এখনো পর্যন্ত ৩৯ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৪৭ টি করোনা স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছে। গত পরশু গতকাল এবং আজ আসামে এক লক্ষ করে করোনা স্যাম্পল টেস্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে।

তাহলে বাংলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে? মুম্বাইয়ে গণেশ পুজো এবার বড় করে হয়নি, এই রাজ্যে ঈদ পালন করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু দুর্গাপুজোর অবাধ অনুমতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কি আখেরে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করছেন না? উঠছে প্রশ্ন।

যেখানে কেরালা ওনাম উৎসব এর পর করোনার সংক্রমণ ১২৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে সেই ফলাফল দেখার পরেও রাজ্য সরকার যেভাবে পুজোর আয়োজনে কোন রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি তাতে স্থম্ভিত চিকিৎসক মহল। উপরন্তু ডাক্তার এবং নার্সদের পুজোর সমস্ত ছুটি বাতিল করে দিয়েছেন মমতা! শুধুমাত্র সতর্কবাণী এবং অনুরোধ করে করোনাকে ঠেকাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

যে রাজ্যগুলি পুজো করতে দেয়নি বলে মুখ্যমন্ত্রীর এত রাগ সেই রাজ্যগুলি অন্তত করোনা স্যাম্পল টেস্ট পরীক্ষায় বাংলা কে গো হারান হারিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুধু উৎসব নিয়ে ব্যস্ত, মানুষের জীবন নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরাই। এখন পুজোর পরে বাংলার অবস্থা ঠিক কী দাঁড়াবে তা ভেবেই গা কেঁপে উঠছে বিশেষজ্ঞদের। কারণ রাজ্যে পুজো পরবর্তী করোনা ঢেউ সামলাবার মত স্বাস্থ্য কাঠামো এখনো তৈরি করে উঠতে পারেনি মমতা সরকার।

You might also like
Comments
Loading...