সব খবর সবার আগে।

” আরও ১১টা গুন্ডা-সহ জাহাজ ঘরের মালিককে জেলে ঢোকাবো!” নন্দীগ্রামে লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন এসে কার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বার্তা বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর?

ভোটের ফল প্রকাশের দিনই বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতির উপর হামলার ঘটনা ঘটে নন্দীগ্রামে। এরপর ১৩মে মৃত্যু হয় তাঁর। যার পর বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ আসে, পিটিয়ে মারা হয়েছে তাঁকে।

তারপর ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে সিবিআই দেবব্রতর খুনে গ্রেফতার করে ১১ জনকে। সেই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে আরও ১১ জনকে জেলে ঢোকানোর হুঁশিয়ারি দিলেন এবার বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিফ ইলেকশন এজেন্ট শেখ সুফিয়ানকে জেলে ঢোকানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা। বুধবার দিন নন্দীগ্রামের সোনাচূড়াতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

মূলত এদিন সোনাচূড়ায় একটি ক্লাবের লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধনে এসেছিলেন বিধায়ক। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশে মৌলবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব হয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এরপরই ভোট পরবর্তী হিংসায় দেবব্রতর মৃত্যুকে মৌলবাদীদের আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি বার্তায় জানান, “নন্দীগ্রামে দেবব্রত মাইতির খুনের ঘটনায় এগারোটা গুন্ডাকে জেলে ঢুকিয়েছি। জাহাজ ঘরের মালিক-সহ আরও এগারোটা গুন্ডা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরও জেলে ঢোকাবো। আমার নাম শুভেন্দু অধিকারী।”

জাহাজ ঘরের মালিক বলতে তিনি কাকে ইঙ্গিত করেছেন? তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। যেই ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই, শুভেন্দু অধিকারীর চোখে সেই ১১ জন বাদে আরও ১১ জন দুষ্কৃতী ঘুরে বেড়াচ্ছে বাইরে। যাদের মধ্যে একজন জাহাজ ঘরের মালিক। বছর ৭ আগে নন্দীগ্রামের তেখালিতে সভা করতে গিয়েছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন নন্দীগ্রাম জেটিতে নেমে জহুরী মোড়ের কাছে একটা বসতবাড়ি চোখে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি কার্যত তা দেখে অবাক হয়ে যান।

পাঁচতলা সেই বাড়ি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব শেখ সুফিয়ানের। ‘মাশাল্লাহ’ নাম সেই জাহাজের মত দেখতে বাড়ির। কিন্তু সেই বাড়িতে প্রবেশ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চে সুফিয়ানকে তিনি বলেছিলেন, ওই বাড়ি না বেচলে তাঁকে দল ছাড়তে হবে। যদিও সেই বাড়ি বেঁচেননি নেত্রীর চিফ ইলেকশন এজেন্ট। দেবব্রত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। এদিন তাঁকে উদ্দেশ্য করে মূলত বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার জবাবে তৃণমূল সভাপতি শেখ সুফিয়ান বলেন, “এটা প্রতিহিংসা মূলক কথা। আমি আগেও বলেছি, শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করছেন। নন্দীগ্রামকে নিয়ে খেলা করছেন। আমরা জানি, সিবিআই একটা দলের দালাল। সংস্থার নিজস্ব সত্তা নেই। শুভেন্দু বাবু মহালয়ার দিন বলেছিলেন, ১১ জনকে গ্রেফতার করা হবে, হয়েওছে। কিন্তু আমরা জানি আমরা নির্দোষ। যাঁরা জেলে গিয়েছেন, তাঁরা মাথা উঁচু করে ফিরবেন। আমরাও নির্দোষ প্রমাণিত হব।”

এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার বিপক্ষে পাল্টা হুঁশিয়ারি বার্তা দিলেন শেখ সুফিয়ান। বলেন, “ওঁকেও জেলে যেতে হবে। ত্রিপল চুরি কেসে হাইকোর্টে গিয়েছেন। আগামীতে ওঁনারও অনেক ধাপ্পাবাজি ধরা পড়বে।”

এই ভাবে এদিন লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধনে এসে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিফ ইলেকশন এজেন্টের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। নাম না নিলেও, তাঁর ইঙ্গিত সকলের কাছে পরিষ্কার।

You might also like
Comments
Loading...