সব খবর সবার আগে।

Exclusive: ‘ভোট আগেরবার কাকে দিয়েছিলেন?’ নির্বাচন চলার মাঝেই জনগণকে ফোন! বিপাকে তৃণমূল

যত দিন যাচ্ছে শাসক শিবির যে কত বড় গর্তে ঢুকছে সেকথা ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট সিরিজের ফোন নং থেকে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কাছে ফোন যাচ্ছে এবং সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যে বিষয়টি হচ্ছে তা একপ্রকার আশঙ্কাজনক।

সম্প্রতি জনৈক এক ব্যক্তির একটি অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে এসেছে সেখানে ঘুরিয়ে শাসক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই সিরিজের নম্বর থেকে ফোনটি তার কাছে আসে এবং তার নাম, ঠিকানা, বিধানসভা কেন্দ্র সকল কিছু জানতে চাওয়া হয়। তিনি সরল বিশ্বাসে সবকিছু বলেন কিন্তু তাকে যখন উল্টোদিক থেকে হঠাৎ করে প্রশ্ন করা হয় যে দু’বছর আগে তিনি লোকসভা নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছিলেন তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে ব্যাপারটা অন্য দিকে যাচ্ছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি কাকে ভোট দিয়েছি।” প্রশ্নকর্তা তাকে জোর করতে থাকে এবং বলতে থাকে যে ভোটের সমীক্ষা করার জন্য এই তথ্য তার লাগবে। যদিও এই ব্যক্তি প্রতিবাদ করে উঠলে তখন সেই প্রশ্নকর্তা ফোনটি কেটে দেন।

কল রেকর্ডিং

এখানেই উঠেছে বিভিন্ন প্রশ্ন। প্রথম কথা এই ফোন নম্বরের সিরিজের নম্বর থেকে বিগত এক-দুই মাস ধরেই পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক মানুষ কে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা জানানো হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে সেই প্রকল্পের সুবিধা তারা পেয়েছেন কিনা।বর্তমানে ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন এই নম্বরগুলো থেকে সাধারন মানুষকে ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে তারা লোকসভা নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছিলেন এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিরোধী শিবির বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, এই ফোন নম্বর সিরিজ থেকে আসলে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক ফোন করছে সাধারণ মানুষকে এবং ঘুরিয়ে তারা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ এবার বিজেপি জিতলে এক ভূমিকন্যা হবেন মুখ্যমন্ত্রী! জানুন কে?

এই কথা অবশ্যই ঠিক ভোটারদের মধ্যে সমীক্ষা করা হয় কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন এই সমীক্ষা কেউ করতে পারে না। যদি সমীক্ষা করতেই হয় তাহলে প্রথম দফার ভোটের আগে এবং ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সমীক্ষা করতে হয়। সেখানে ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন যেভাবে শাসক শিবিরের তরফ থেকে ভোটারদের ফোন করা হচ্ছে তা স্পষ্টতই কোনও সমীক্ষা করতে নয়। আর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য লোকসভা নির্বাচনে ভোটাররা কাকে ভোট দিয়েছিলেন এই তথ্য কেনই বা জানতে চাওয়া হচ্ছে? এই নম্বরগুলি যাচাই করলে দেখা যাচ্ছে যে এই নম্বরগুলি থেকে এই ক’মাসে লক্ষাধিকবার ফোন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মেয়ের কান্নাভরা আর্তিই কাজ দিল, মাওবাদীদের কবল থেকে মুক্ত কোবরা জওয়ান কমান্ডো

বিজেপির দাবি ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন এই নম্বর থেকে ভোটারদের ফোনে ফোন আসা বন্ধ করতে হবে। রীতিমতো চাপে পড়ে শাসক শিবির মরিয়া হয়ে উঠেছে তাই ভোটারদের তারা এই ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

You might also like
Comments
Loading...