রাজ্য

‘বহিরাগত’ নন জে পি নাড্ডা, আদতে তিনি বাঙালি পরিবারেরই জামাই

বাংলায় ঢোকার পর থেকেই একের পর এক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। যাত্রাপথে বাধা দেওয়া শুরু করে তাঁর কনভয়ে হামলা, সবকিছুই সহ্য করেছেন তিনি তাঁর দু’দিনের বাংলা সফরে। এমনকি তাকে ‘বহিরাগত’ বলেও দেগে দেওয়া হয়েছে শাসকদলের পক্ষ থেকে। কিন্তু তিনি আদপেও ‘বহিরাগত’ নন, তিনি আসলে এই বাংলারই জামাই। এমন তথ্যই উঠে এল জে পি নাড্ডার স্ত্রী মল্লিকা নাড্ডার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে।

১১ই ডিসেম্বর, শুক্রবার ছিল জে পি নাড্ডা ও মল্লিকা নাড্ডার বিবাহবার্ষিকী। এদিন নিজেদের বিয়ের কয়েকটি ছবি কোলাজ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন জে পি নাড্ডার পত্নি মল্লিকা নাড্ডা। সেই ছবিতেই নাড্ডাকে দেখা গিয়েছে পুরোদস্তুর বাঙালি বরের বেশে। তাঁর পরনে ধুতি, পাঞ্জাবি ও মাথায় শোলার টোপর। অন্য একটি ছবিতে মল্লিকা নাড্ডার মাথায় সিঁদুর পরানো অবস্থায় দেখা গিয়েছে, তাঁর পরনে গাঢ় লাল বেনারসি ও মাথায় লাল চেলি। মল্লিকাদেবীর পাশে রয়েছেন স্বামী নাড্ডা।

খবর সূত্রে জানা গিয়েছে, জে পি নাড্ডার স্ত্রী মল্লিকা নাড্ডা আদতে বাঙালি। তবে তিনি প্রবাসী বাঙালি। বিয়ের আগে তাঁর পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে জন্ম মল্লিকাদেবীর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর কতটা যোগাযোগ রয়েছে, তা সেভাবে স্পষ্ট নয়।

জানা গিয়েছে, জব্বলপুরের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন মল্লিকাদেবী। তখন থেকেই সমাজমূলক কাজে লিপ্ত হন তিনি। সেখান থেকেই জে পি নাড্ডার সঙ্গে আলাপ। এরপর ১৯৯১ সালে তারা বিয়ে করেন।

উল্লেখ্য, বিজেপি বাংলার দল নয় বলে এমনিতেই শাসকদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্তব্য ধেয়ে আসে। তবে নাড্ডার সঙ্গে যে বাংলার সম্পর্ক প্রায় তিন দশক পুরনো, তা এখন জানা গেল। তাদের বিবাহবার্ষিকীর আগের দিনই নাড্ডাকে বাংলাতেই আক্রমণ করা হয়। ইটবৃষ্টি, হামলা, গাড়ি ভাঙচুর উপেক্ষা করেও “মা দুর্গার কৃপায়” তিনি ডায়মন্ড হারবারে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছন। তাঁর এই হামলাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত। তবে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির উপর এই হামলা যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মোটেই বরদাস্ত করবে তা, তা বেশ স্পষ্ট।

Related Articles

Back to top button