রাজ্য

‘তৃণমূলের লোগো প্রত্যাহার করে নিতে বলব নির্বাচন কমিশনকে’, বেআইনি নিয়োগ মামলায় বিস্ফোরক বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

আজ, শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজিরা দেন রাজ্যের শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন। এদিন রাজ্যের আইনজীবী জানান যে গতকাল সিবিআই মণীশ জৈনকে তলব করেছিল। সেখানে গতকাল বিকেলেই হাজিরা দিয়েছেন তিনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

এর পরদিন অর্থাৎ আজ আদালতে হাজিরা দেন মণীশ জৈন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ও মণীশ জৈনের মধ্যে চলে সওয়াল-জবাব। এদিন এজলাসে বেআইনি নিয়োগ নিয়ে মণীশ জৈনকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। কেন অযোগ্যদের জন্য শূন্যপদ তৈরি করা হল আর কারাই বা এই পরামর্শ দিয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হয় মণীশ জৈনের কাছে।

মণীশ জৈন জানান যে ক্যাবিনেটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিচারপতির মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্যাবিনেট সংবিধান বিরোধী কাজ করেছে। কেউ কেন সতর্ক করল না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

এই সওয়াল-জবাবের মাঝেই মণীশ জৈনের জবাবে রাগে ফেটে পড়েন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ক্যাবিনেটকে বলতে হবে যে আমরা অযোগ্যদের পাশে নেই এবং এই নিয়ে ১৯ মে-র বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে আমি এমন পদক্ষেপ করব, যা গোটা দেশে কখনও হয়নি। আমার সন্দেহ, এ রাজ্যে হয় গণতন্ত্রই সঠিক হাতে নেই আর নাহলে গণতন্ত্র বিকশিতই হয়নি। আমি ক্যাবিনেটকে পার্টি করে দেব। সবাইকে এসে উত্তর দিতে হবে। শোকজও করতে পারি”।

শুধু তাই-ই নয়। এদিন আদালতে হুঁশিয়ারিও শানান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি ইলেকশন কমিশনকে বলব, তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য। দল হিসেবে তাদের মান্যতা প্রত্যাহার করতে বলব নির্বাচন কমিশনকে। সংবিধান নিয়ে যা ইচ্ছা করা যায় না”।

এদিন এজলাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর যন্ত্রণা বুঝতে পারি। কিন্তু কিছু দালাল, যারা মুখপাত্র বলে পরিচিত, তারা আদালতের নামে যা ইচ্ছা বলছে। বলছে যে, নিয়োগ হলেই আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছে। আদালত কি এগরোলের মতো স্থগিতাদেশ বেচে নাকি, যে আদালতে এলেই স্থগিতাদেশ পেয়ে যাবে”।

বলে রাখি, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে নির্দিষ্ট সময়েই হাজিরা দিয়েছিলেন মণীশ জৈন। কিন্তু রাজ্য সরকার যেহেতু সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায়, সেই কারণে সেদিন সেই মামলা শোনেন নি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তবে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আবেদন খারিজ হতে আজ, শুক্রবার ফের আদালতে হাজিরা দেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন।

Related Articles

Back to top button