রাজ্য

কুকুরের জন্য আলাদা ফ্ল্যাট! পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আয়ের উৎস কী, তাঁর সম্পত্তির হিসাব চেয়ে হলফনামা জমা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি(SSC Scam Case) নিয়ে এখন গোটা রাজ্য উত্তাল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের(Partha Chatterjee) নাম জড়িয়েছে এই মামলায়। এই নিয়ে আজ, শুক্রবার কোর্টরুমের মধ্যেও এক শোরগোল পড়ে গেল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আয়ের উৎস, তাঁর অ্যালসেশিয়ানের নামে কোথায় ফ্ল্যাট রয়েছে, তা নিয়ে পার্থর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়(Avijit Ganguly)। এমনকি, পার্থর সম্পত্তি হলফনামা দিয়ে জানানোর কথাও তুললেন তিনি।

এদিন এজলাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কী কল্যাণ দা কেমন আছেন?” জবাবে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আপনি যেমন রেখেছেন”। এরপর বিচারপতি ফের কল্যাণের উদ্দেশে বলেন, “আপনি নাকি আমার নামে কী সব বলেছেন শুনলাম”। তা শুনে কল্যাণ বলেন, “হ্যাঁ বলেছি তো, পারলে আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিন”।

সেই সময় এমন কথা শুনে হতভম্ব হয়েছে যান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনিও হয়তো বুঝতে পারেননি যে কল্যাণের হঠাৎ কী হল। তাঁর ওই কথা শুনে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কী বলছেন? আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি। আমি এমনিই বলেছি”।  কল্যাণ বলেন, “আমি যা বলেছি ডিভিশন বেঞ্চে বলেছি”।  পাল্টা বিচারপতি বলেন, “সে আপনি বলতেই পারেন। আপনার অধিকার রয়েছে”। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি যখন আইনজীবী হিসেবে বার অ্যাসোসিয়েশনে ছিলাম, তখন থেকে আপনাকে পছন্দ করি। আমি জনপ্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা করি”।

এদিন বেশ আবেগঘন হয়েই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যাঁদের জন্য করেছি তাঁদের কাছে এখন খারাপ। আর যাঁদের জন্য করিনি, তাঁরাই এখন আমায় ভালোবাসেন”। একথার পরেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এজলাসে দাঁড়িয়ে কল্যাণ বলেন, “আমি আইনজীবী হিসেবে কাজ ও রাজনীতি দুটোই ছাড়তে চাই। কিন্তু উপায় নেই যে”।
এদিন একথার প্রসঙ্গেই উঠে আসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে কথা। এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন যে তাঁর মক্কেলের কোথায় কী সম্পত্তি রয়েছে, তা তিনি হলফনামা দিয়ে জানাতে পারবেন কী না!

আসলে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ চেয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আর্জি জানিয়েছিলেন কল্যাণ। তিনি সওয়াল করে বলেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই দুর্নীতিতে কীভাবে জড়িত, তা এখনও প্রমাণ হয়নি। এখন তাঁকে এই মামলায় সিবিআইয়ের কাছে যেতে বলা হচ্ছে।

এরই মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির হিসাব চেয়ে কল্যাণকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, “এটা প্রয়োজন। কোনও শিশু হিসেবে নয়, আপনাকে আইনের ছাত্র হিসাবে একথা বলছি। আপনি শুধু এই কোর্টের নন, সুপ্রিম কোর্টেরও আইনজীবী। রাজনৈতিক নেতাদের এত সম্পত্তি কীভাবে হয়, আয়ের উৎস কী? আপনিই বলুন না”।

বিচারপতি বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সব সম্পত্তির তদন্ত দরকার। ওঁর অ্যালসেশিয়ানের জন্য কোথায় ফ্ল্যাট আছে, সব তদন্ত হওয়া দরকার। আপনার মক্কেলের কী বলার আছে বলুন। হলফনামা দিয়ে জানাক”।

এই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু বলার চেষ্টা করলে বিচারপতি বলেন, “আপনি কী জানতে চান, নাকতলায় কোথায় অ্যালসেশিয়ানের জনহ্য ফ্ল্যাট আছে”? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আয়ের উৎস আসলে কী, তা জানতে চান বিচারপতি।

Related Articles

Back to top button