রাজ্য

‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ ক্ষমাপ্রার্থনা কবীর সুমনের! ‘আর কার কার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে জানান’, জবাবদিহি চাইলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ

গত দু’দিন ধরে তাঁকে নিয়ে নানান তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। নানান মহলে এই বিষয়ে বিস্তর আলোচনাও হয়েছে। এবার সেই বিতর্কের ইতি টানলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা শিল্পী কবীর সুমন।

কবীর সুমনের সঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমের এক সাংবাদিকের ফোনে কথোপকথনের অডিও ক্লিপ সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। সেই ফোন কলে তিনি ওই সংবাদমাধ্যমকে ‘আরএসএস’র চ্যানেল বলেন ও সেই সাংবাদিকের উদ্দেশেও নানান অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার করেন। শুধু তাই-ই নয়, বাঙালি জাতির প্রতিও লেখার অযোগ্য ভাষার প্রয়োগ করেন।

এই নিয়ে নানান মহলে শুরু হয় তুলকালাম। এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ নিয়ে শনিবার টুইটে লেখেন, “এর জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত, না চাইলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”। এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে ধেয়ে আসে নিন্দার ঝড়। গেরুয়া শিবিরের তরফে দাবী করা হয় যে কবীর সুমনের এমন মন্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর। বিজেপির পক্ষ থেকে গতকাল, শনিবার কবীর সুমনের বিরুদ্ধে মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

আর ঘটনাচক্রে আজ, রবিবার সকালেই একটি পোস্ট করে নিজের এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেন শিল্পী। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ভেবে দেখলাম সে দিন টেলিফোনে এক সহনাগরিককে যে গাল দিয়েছিলাম, সেটা সুশীল সমাজের নিরিখে গর্হিত কাজ। এতে কাজের কাজ কিছু হল না, মাঝখান থেকে অনেকে রেগে গেলেন, উত্তেজিত হলেন। এমনিতেই করোনার উৎপাত তার উপর ফোনে গালমন্দ—লাভ কী। তাই আমি সহনাগরিকের কাছে, বিজেপি আরএসএস-এর কাছে এবং বাঙালিদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি”।

তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়া নিয়েও সতর্ক সুমন লিখেছেন, “আইনরক্ষীরা নিশ্চিন্ত থাকুন। আমি চেষ্টা করব সব ব্যাপারে একদম চুপ থাকতে। আর কোন কোন ব্যাপারে কে কে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করছেন বা করবেন বলে ভাবছেন দয়া করে একটি তালিকা বানিয়ে ডাকযোগ পাঠান। আমি নতমস্তকে সম্মতিসূচক সই করে দেব”।

তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনাতেও চোখে পড়েছে ঔদ্ধত্যের। তিনি পোস্টে লেখেন, “আপনাদের যদি ভাবতে ভাল লাগে যে আমি খুব ভয় পেয়ে এটা লিখছি, তো তাইই ভাবুন। যেটা ভাবলে আপনাদের মন ভাল হয়ে ওঠে সেটাই ভাবুন”।

তবে এই পোস্টের শেষে কবীর সুমন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে পদ্মশ্রী দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি লেখেন, “আমার মাতৃসমা, গুরুস্থানীয়া সুরসম্রাজ্ঞী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে তাঁর নব্বই বছর বয়সে যে পদ্মশ্রী খেতাব ছুঁড়ে দেওয়া হল তা মানতে পারলাম না”।

কবীর সুমন আজ এই পোস্ট করে ক্ষমা চাইলেও, গতকাল অবশ্য একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে স্বাভাবিক ভাবেই আমি আক্রান্ত। এটাই হওয়ার কথা। আরও হবে। আমার যায়-আসে না। যা করেছি তা, দরকার হলেই, আবার করব”। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষের মুখে পড়েই হোক বা রাজনৈতিক কারণ, ক্ষমা চাইলেন কবীর সুমন।

Related Articles

Back to top button