রাজ্য

‘যা ব্রডকাস্ট কর’, ফোনে একথা বলার পরও কবীর সুমনের দাবী ‘আমার কথা রেকর্ড করা হবে, আমাকে ওই সাংবাদিক জানায়ইনি’!

তাঁকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। আজ। রবিবার সকালেই ভাইরাল হওয়া ফোনের কথোপকথনের অডিও ক্লিপে তাঁর ভাষার জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান কবীর সুমন। কিন্তু ফের এদিনের দ্বিতীয় পোস্টে নতুন করে বিতর্কে নিভে যাওয়া আগুনে ফুঁ দিলেন তিনি নিজেই।

জানালেন, তাঁর কথা যে রেকর্ড করা হবে, তা ওই সাংবাদিক তাঁকে জানান নি। কিন্তু এদিকে ওই অডিও ক্লিপেই কবীর সুমনকে লেখার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়ার পর বলতে শোনা গিয়েছে, “যা ব্রডকাস্ট কর”। এর মানে তিনি তো জানতেনই যে তাঁর কথা রেকর্ড করা হচ্ছে। আর তিনি ওই সাংবাদিককে রীতিমতো অর্ডার করার ভঙ্গিতে তাঁর কথা ব্রডকাস্ট করার কথা বলেন। অর্থাৎ তিনি চাইছিলেন যে তাঁর এই কথাগুলো জনসাধারণ জানুক। তাহলে এখন তাঁর এই পোস্ট নিয়ে ফের বেশ প্রশ্ন উঠেছে।

এদিনের দ্বিতীয় পোস্টে কবীর সুমন লেখেন, “একটি বিশেষ চ্যানেলের এক প্রতিনিধি যখন আমায় ফোন করেন তিনি কিন্তু আমাদের দুজনের কথাবার্তা রেকর্ড করার কথা আমায় বলেননি, আমার অনুমতি নেননি”।

এরপর তিনি লেখেন, “যে দলের এক নেতা, বর্তমানে বিধায়ক, মুখ্যমন্ত্রীকে, যিনি একজন মহিলা, সমানে ‘বেগম’ বলে যান, নন্দীগ্রামকে বলে যান ‘মিনি পাকিস্তান’ তাঁর দলকে মুখের কথায় আক্রমণ করতে পারব না আমি। তখন বিরোধীকে বলতে দিতে হবে।’

এরসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “পয়েন্ট ধরে ধরে আরও বলা যায়, কিন্তু আমি তা চাইছি না। সুযোগ বুঝে এক কমিউনিস্ট পার্টির নেতাও উপদেশ দিচ্ছেন। অর্থাৎ আমার বিরুদ্ধে ডান বাম ঐক্যবদ্ধ। ‘মেলাবেন তিনি মেলাবেন’ লিখেছিলেন কবি অমিয় চক্রবর্তী। ‘তিনি’ স্তরের নই আমি। কিন্তু, যা দেখছি, আমিও পারলাম”।

তবে কবীর সুমনের কথায়, তিনি আর উত্তেজনা বাড়াতে চান না। লিখলেন, “যাই হোক, উত্তেজনা বাড়ানো নয়, প্রশমন। তাই দোষ কবুল। অন্য পক্ষকে কিছু করতে হবে না। ধরে নিন খুব ভয় পেয়ে গেছি। খুব। আমি বুড়ো মানুষ। এক ধাক্কাতেই কাৎ। তাই – না, বাবু, মারবেন না, ছেড়ে দিন”।

তাঁর সংযোজন, “লুকিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও ক্লিপ যেমন অনেকে শুনেছেন। শুনে যাঁরা দুঃখ পেয়েছেন, আঘাত পেয়েছেন তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এই অধম। ইচ্ছে – তাঁদের নেমন্তন্ন করে খাওয়াই। বেশি না। পরিমিত। এই করোনার ঝামেলা মিটলে। আশা করি অধমকে সে সুযোগ দেবেন”।

কবীর সুমনের ফাঁস হওয়া ওই অডিও ক্লিপ নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও, গতকাল শনিবারের এই পোস্টের পর তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ লেখেন, “জনপ্রিয় গায়ক বা প্রতিভাধর বুদ্ধিজীবী হলেই এ সব বলা যাবে, এটা হতে পারে না”। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপিও। গতকালই বিজেপির তরফে মুচিপাড়া থানায় কবীর সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

গতকাল কবীর সুমন অবশ্য বলেছিলেন যে তিনি যা বলেছেন, দরকার পড়লে আবার বলবেন। কিন্তু রবিবাসরীয় সকালেই ভোল বদলে ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, “ভেবে দেখলাম সে দিন টেলিফোনে এক সহনাগরিককে যে গাল দিয়েছিলাম, সেটা সুশীল সমাজের নিরিখে গর্হিত কাজ। এতে কাজের কাজ কিছু হল না, মাঝখান থেকে অনেকে রেগে গেলেন, উত্তেজিত হলেন। এমনিতেই করোনার উৎপাত তার উপর ফোনে গালমন্দ—লাভ কী। তাই আমি সহনাগরিকের কাছে, বিজেপি আরএসএস-এর কাছে এবং বাঙালিদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি”।

তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়া নিয়েও সতর্ক সুমন লিখেছেন, “আইনরক্ষীরা নিশ্চিন্ত থাকুন। আমি চেষ্টা করব সব ব্যাপারে একদম চুপ থাকতে। আর কোন কোন ব্যাপারে কে কে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করছেন বা করবেন বলে ভাবছেন দয়া করে একটি তালিকা বানিয়ে ডাকযোগ পাঠান। আমি নতমস্তকে সম্মতিসূচক সই করে দেব”।

তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনাতেও চোখে পড়েছে ঔদ্ধত্যের। তিনি পোস্টে লেখেন, “আপনাদের যদি ভাবতে ভাল লাগে যে আমি খুব ভয় পেয়ে এটা লিখছি, তো তাইই ভাবুন। যেটা ভাবলে আপনাদের মন ভাল হয়ে ওঠে সেটাই ভাবুন”। তবে রবিবারের দ্বিতীয় পোস্টে তিনি যা লিখলেন, তাতে নতুন করে বিতর্কে ঘি পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button