সব খবর সবার আগে।

‘কোনও পিতৃপরিচয়ে রাজনীতিতে আসিনি, অভিষেককে মুখ্যমন্ত্রী করে দাও, তবে তাঁকে নেতা বলে মানব’, ফের বিস্ফোরক কল্যাণ

করোনা মোকাবিলার জন্য নিজের গড় ডায়মন্ড হারবারে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে করোনা পরিস্থিতির জেরে আপাতত দু’মাস মেলা-ভোট সব বন্ধ রাখা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে তোপ দাগেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারকে মডেল হিসেবে প্রতিস্থাপন করেছেন অভিষেক। এরপরই দলের মধ্যে বিরোধিতা বেড়েছে। তবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিপরীতেই অবস্থান করলেন কল্যাণ। তিনি যে অভিষেককে নেতা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ, একথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন কোনও মত কেন থাকবে, যার সঙ্গে দলের মিল নেই। তিনি বলেন, “দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে থেকে কারও ব্যক্তিগত কোনও মত থাকতে পারে না”।

এদিন এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বলেন, “এটা সরকার বিরোধী কথা বলেছেন অভিষেক। এটাই আমার মত। সরকার যখন একটা স্ট্যান্ড নিচ্ছেন, তখন অন্য মত প্রকাশ করার অর্থ দলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। নির্বাচন হওয়া ভালো কি মন্দ, আমি তাতেও যাব না”।

নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে কল্যাণ বলেন, “দল থেকে তাড়িয়ে দিক না, তাড়িয়ে দিলে আট লক্ষ টাকা রোজগার করব”। তাঁর কথায়, “২০১১ সালের আগে থেকে রাজনীতিতে আছি। আমি পিতৃ পরিচয়ে রাজনীতি করতে আসিনি”।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে নেতা মানতে নারাজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তাঁর দাবী, “অভিষেকের নেতৃত্ব প্রমাণিত হয়নি। অভিষেক একজন পদাধিকারী। নেতা মমতাই। ত্রিপুরা, গোয়া জিতিয়ে দাও, মুখ্যমন্ত্রী করে দাও, তবে অভিষেককে নেতা বলে মেনে নেব”।

গতকাল, বুধবার ডায়মন্ড হারবারে ৫৩ হাজার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে বিশ্বরেকর্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’তে। এই নিয়েও তোপ দাগতে ছাড়েন নি কল্যাণ। তাঁর কথায়, তাঁকে যদি অত কিট দেওয়া হয় তাহলে তিনিও পরীক্ষা করাতে পারবেন।

এই বিতর্ক সামনে আসার পর গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখতে শুরু করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বিষয়ে কুণালের বক্তব্য, অভিষেক আসলে মানুষের মনের কথাই বলেছেন। এই নিয়ে কোনও প্রকাশ্য বিতর্ক দল ভালোভাবে নিচ্ছে না। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে।

কুণালের এমন মন্তব্যে কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, “কুণাল ঘোষের সার্টিফিকেট নিয়ে আমাকে চলতে হবে না। কুণাল মমতাকে নিয়ে কি কদর্য কথা বলেছেন! দলের মুখপাত্র হয়ে ব্যক্তিগত ভাবে আমার চরিত্র হনন করেছেন কুণাল, আমি এটা দেখে নেব। সাংসদের কথায়, আমাকে কখনও জেলে বসে সাংবাদিক বৈঠক করতে হয়নি”।

You might also like
Comments
Loading...