রাজ্য

‘তৃণমূল যদি দলে না নেয়, তাহলে AAP-এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে’, জানালেন ‘দিদির সৈনিক’ হতে চাওয়া লক্ষ্মণ শেঠ

বাম, তারপর বিজেপি আর তারপর কংগ্রেসের পর এবার তাঁর পালা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার। রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে ‘দিদির সৈনিক’ হতে চান তমলুকের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ। এই ইচ্ছা অনেকদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন অনেকদিন ধরেই। সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তবে এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি তৃণমূল। তবে কোনও নেতিবাচক কিছুও বলা হয়নি দলের তরফে। তাই অপেক্ষায় রয়েছে প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমেই নিজের অপূর্ণ কাজগুলি তিনি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে ধারণা লক্ষ্মণ শেঠের। তবে তিনি এও বলেন যে তৃণমূল যদি তাঁকে দলে না নেয়, তাহলে তাঁকে আম আদমি পার্টিতে যোগ দিতে হবে।,

২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের লড়াইয়ে তৃণমূলের বিরোধিতা করেন তিনি সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়ে। ২০১৪ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন লক্ষ্মণ শেঠ। এরপর যোগ দেন বিজেপিতে। তবে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তমলুকের আসন থেকেই লড়াই করেন তিনি। তবে লাভের লাভ হয়নি।

এদিকে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ নিয়েই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। যদিও এখন সেই দূরত্ব ভুলে এগিয়ে যেতে চান লক্ষ্মণ শেঠ। তাঁর কথায়, “কেউ চিরদিন শত্রু হয়ে থাকতে পারে না। যাঁরা এই তত্ত্ব নিয়ে চলেন তাঁরা গোঁড়া। কোনও পরিবর্তন চান না। শুঢুঁ তাই-ই নয়, তিনি এও জানান যে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে নিজের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান।

লক্ষ্মণ শেঠের কথায়, “তৃণমূলে যোগদানের আবেদন জানিয়েছি। এখনও সম্মতি মেলেনি। তৃণমূলই পারে রাজ্যে উন্নয়ন ঘটাতে। হলদিয়া-সহ জেলাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা অসমাপ্ত হয়ে থাকে। সেই কাজ করতে চাই। আগামী পুরসভা, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের আগে যদি তৃণমূল আমায় দলে না নেয়, তাহলে আপের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে”।

তিনি আরও বলেন, “ছোট থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি চাকরিতে যোগদান করিনি। আমি মনে করি রাজনীতির মধ্য দিয়ে মানুষের উন্নয়ন করা ও তাঁদের পাশে থাকা সম্ভব। তাই আমার শেষ জীবনেও রাজনীতি করে মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই”

এখানেই শেষ নয়। মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে লক্ষ্মণ শেঠ বলেন, “মহারাষ্ট্রে যা মনে হচ্ছে বিজেপি সরকার গড়বে। সর্বগ্রাসী হয়ে যাচ্ছে। সে করুক, কংগ্রেস তো সারা ভারতে শাসন করেছে। কিন্তু, কংগ্রেস তো ভারতীয় সংস্কৃতি ও আদর্শবাদকে কখনও নষ্ট করেনি”।

Related Articles

Back to top button