রাজ্য

চাঞ্চল্যকর! লটারির টিকিট জোর করে কেড়ে নেন অনুব্রত, লটারি-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবী লটারি বিজেতা নূর আলির বাবার

অনুব্রত মণ্ডলের লটারি জেতার রহস্য আরও বেশি করে ঘনীভূত হচ্ছে। এই নিয়ে বিস্ফোরক দাবী করলেন লটারি বিজেতা নূর আলির বাবা কটাই শেখ। তাঁর দাবী, জোর করে লটারির টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি, ভয় দেখিয়ে সাতদিন গ্রামে তারা ঢুকতে পারেন নি বলেও দাবী করেন তিনি। ওই ব্যক্তি আদৌ সত্যি বলছেন কী না, তা সিবিআই আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন।  

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই টুইটের মাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন যে ডিয়ার লটারির মাধ্যমে আসলে কালো টাকা সাদা করছেন তৃণমূল নেতারা। সেই দাবী নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এরই মাঝে সিবিআইয়ের নজর পড়ে গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের লটারি লাভের দিকে। তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত।

অনুব্রত নিজে লটারির টিকিট কেটেছিলেন কী না, নাকি স্রেফ ক্ষমতাবলে অন্যের টিকিট নিয়ে কোটিপতি হয়েছিলেন তিনি, তা জানতে চায় সিবিআই। অন্য কারোর থেকে লটারির টিকিট নেওয়ার পরিবর্তে নগদ টাকা নাকি সম্পত্তি দিয়েছিলেন? এরকম নানা তথ্যের খোঁজে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা উঠেপড়ে লেগেছে।

সেই তথ্যের খোঁজেই গতকাল, বুধবার রতনপল্লিতে যান সিবিআই আধিকারিকরা। আজ, বৃহস্পতিবার ভোরেই তারা পৌঁছন বড় শিমুলিয়ার বাসিন্দা নূর আলির বাড়ি। শোনা গিয়েছে, নূর আলির থেকেই লটারির টিকিট নিয়ে কোটিপতি হয়েছেন অনুব্রত।

জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও লটারির টিকিট সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। এদিন বেলা ১১টার সময় নূর আলি ও তাঁর দাদাকে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে তলব করে সিবিআই। নির্দিষ্ট সময় মেনেই সেখানে যান তারা।

এরই মাঝে চাঞ্চল্যকর দাবী করে বসলেন নূর আলির বাবা কটাই শেখ। তাঁর দাবী, তাঁর ছেলে ১ কোটি টাকার লটারি জিতেছিল। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল নেতারা সেই লটারি দিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রথমে বলা হয় যে লটারির টিকিটের বিনিময়ে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র লটারির টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়। কটাই শেখ দাবী করেন যে আতঙ্কে তারা সাতদিন গ্রামছাড়া ছিলেন। এবার সিবিআইয়ের জেরার মুখে কটাই শেখের দুই ছেলে কী উত্তর দেন, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button