রাজ্য

চাকরির দেখা মেলেনি, সংসারে অভাবের তাড়নায় ট্রেনে ট্রেনে হকারি করছেন এমএ-বিএড পাশ করা বাঁকুড়ার বৃষ্টি

রাজ্যে চাকরি নেই। এর জেরে কত শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বেছে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে কিছু করে পেট চালানোর কাজ। কেউ কেউ আবার উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরির অভাবে রাজ্যছাড়া। এমন কত উদাহরণ আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত দেখা যায়। কেউ উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি না পেয়ে বিক্রি করছেন চা, তো কেউ আবার খুলেছেন ফুচকার দোকান। এবার সেরকমই এক মহিলার কাহিনী কথা উঠে এল।

বাঁকুড়ার বৃষ্টি। পিয়ারডোবা স্টেশনে তাঁকে এক ডাকে সকল মহিলারা চেনেন। তাঁর মিষ্ট স্বভাব ও সৎ মানসিকতার জন্য সকলে খুব ভালোওবাসেন বৃষ্টিকে। যেন তাদের পরিবারের এক অঙ্গ হয়ে উঠেছে বৃষ্টি। তাঁর উপর ভরসা সহযাত্রীদের অগাধ। কিন্তু কীভাবে এত মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠলেন বৃষ্টি?

সকাল থেকে উঠে যেন হাতের জল শুকোয় না বৃষ্টির। সংসারের সমস্ত কাজ সামলান। কাঠের জ্বালে রান্না করা থেকে মেয়েকে স্কুলের জন্য তৈরি করা, বৃদ্ধ শাশুড়ির যত্ন নেওয়া, সবই সামলাতে হয় একা হাতে। আর এরপরই অফিস টাইম এলেই কাঁধে একটা ব্যাগ আর দু’হাতে দুটো ব্যাগ নিয়ে ছোটেন স্টেশনের উদ্দেশে।

নাহ্‌, অফিসে যাওয়ার জন্য নয়, বরং হকারির জন্য। হ্যাঁ, পিয়ারডোবা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে শুরু হয় বৃষ্টির আসল লড়াই। মেয়েদের নাইটি, চুড়িদার, কুর্তি, টপ নানান পোশাক বিক্রি করেন তিনি ট্রেনের মহিলা কামরার মধ্যে। সকলে ভীষণভাবে বিশ্বাস করে বৃষ্টিকে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে এই একই রুটিন তাঁর। হকারি করা এই বৃষ্টি কিন্তু ট্রেনে নিত্যদিন অফিস-কাছারি করতে যাওয়া মহিলাদের থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় কোনও অংশে কম নন।

ভূগোলে এমএ পাশ করেছেন বৃষ্টি। রয়েছে বিএড করার ডিগ্রিও। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস। শত চেষ্টাতেও মেলেনি চাকরি। এদিকে সংসারে ভীষণ অভাব। একবেলা ভাত জুটলে অন্যবেলা উপোস। সেই কারণে চাকরির আশা ছেড়ে স্বামীকে সাহায্য করতে জীবনের সবথেকে বড় সিদ্ধান্তটা নিয়েই নেন বৃষ্টি। শুরু করেন ট্রেনে ট্রেনে হকারির কাজ।

তবে নিজের এই কাজ নিয়ে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন তিনি। কোনও অনুশোচনা নেই তাঁর মধ্যে। তাঁর কথায়, “আমি নিজে খেটে সৎ পথে রোজগার করছি। আমি জানি আমি সৎ। তাই তো আমাকে সকলে এত ভালোবাসে, এত বিশ্বাস করে। আমি যদি সৎ পথে থাকতে পারি, তাহলে আমার জিত হবেই”।

বৃষ্টি চান যে অন্যান্য মহিলারাও যেন এভাবেই সৎ পথে নিজের জীবনকে চালনা করেন। কোনও কাজই যে ছোটো নয়। নিজের মতো করে সৎ পথে রোজগার করে জীবন অতিবাহিত করার নামই জীবন সংগ্রাম। তাই প্রত্যেক মহিলাকেই আত্মনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৃষ্টি। তাঁর এই লড়াইয়ের জন্য তাঁকে কুর্নিশ।

Related Articles

Back to top button