সব খবর সবার আগে।

‘দয়া করে দেশকে বাঁচান’, একুশের মঞ্চ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে আর্জি জানিয়ে মোদী-শাহ্’কে তুলোধোনা মমতার

এরকম যে কিছু একটা হবে, তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। একুশের মঞ্চ থেকে যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারকে তোপ দাগবেন, তা ধারণাই ছিল। তবে এদিনই যে এই মঞ্চ থেকেই তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানাবেন, তা হত অনেকেই ভাবতে পারেননি।

একুশের এই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’কে বেশ কড়াভাবেই আক্রমণ শানিয়ে তুলোধোনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টকে উদ্দেশ্যে করে মমতা বলেন, “দয়া করে দেশকে বাঁচান। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কোর্টকে অনুরোধ করছি। পিকে, অভিষেকের ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে”।

আরও পড়ুন- শুরুতেই ধাক্কা, শহিদ দিবসে মমতার বক্তৃতা জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো যাবে না ত্রিপুরায়

এমন একটি মন্তব্য করে তিনি যেমন একদিকে পেগাসাস ইস্যু নিয়ে সরব হলেন, তেমনি এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বল ঠেলে দিলেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

এদিন একুশের মঞ্চে প্রথম থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই নিজের ভাষণ শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “পেগাসাসের নামে আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। মোদীজি আপনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছি না। আমাদের রাজনীতিতে একটা নীতি আছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছেন আপনি আর অমিত শাহ। যতটা নীচে নামা সম্ভব আপনি নেমেছেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করছে বিজেপি। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে বিজেপি। গণতন্ত্রের বদলে গোয়েন্দাগিরি চলছে”।

বেশ দাবী খাটিয়েই তৃণমূল নেত্রী বলেন, “‌আমাদের ফোনে নজরদারি চলছে। আমি চাইলেও চিদম্বরম, শরদ পাওয়ার, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। ফোনে নজরদারি চালাচ্ছে। মন্ত্রীর ফোন, বিচারপতির ফোনে নজরদারি চলছে”।

আরও পড়ুন- করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল শহিদ দিবস উদযাপন, জেলায় জেলায় শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে

এই সমস্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যাতে হস্তক্ষেপ করে একুশের মঞ্চ থেকে তেমনটাই আর্জি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর এই কথা দিয়েই এই বিষয়টি বেশ স্পষ্ট হয়ে গেল যে পরবর্তীকালে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় হাজির করাতে পারে। অন্তত, আজকের তৃণমূল সুপ্রিমোর কথার মাধ্যমে সেই ইঙ্গিতই প্রকাশ পেল।

You might also like
Comments
Loading...