রাজ্য

‘মোদী এসব করছেন আমি বিশ্বাস করি না’, সিবিআই-ইডি ইস্যু নিয়ে পরোক্ষভাবে অমিত শাহ-শুভেন্দুকেই দায়ী করলেন মমতা

রাজ্যে সিবিআই (CBI) ও ইডির (Enforcement Directorate) অতি সক্রিয়তা নিয়ে এর আগেও বারবার প্রশ্ন তুলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে এবার তিনি বললেন যে এসবের পিছনে যে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রয়েছেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন না। এর কারণ হিসেবে মমতা জানান যে সিবিআই এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই। মমতার কথায় অন্যান্য বিজেপি নেতারা এতে জড়িত রয়েছেন। তাঁর এহেন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে অমিত শাহ (Amit Shah) ও শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) দায়ী করলেন কী না, এখন সেটাই প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ড, নানান বিষয়ে বেশ সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করতে দেখা গিয়েছে সিবিআই ও ইডি-কে। এই নিয়ে তৃণমূলের দাবী এসবে হাত রয়েছে বিজেপি নেতাদের। এই প্রসঙ্গে আজ, সোমবার বিধানসভায় একটি নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। তৃণমূলের দুই বিধায়ক তাপস রায় ও নির্মল ঘোষের তরফে আনা এই প্রস্তাব।

সিবিআই ও ইডির অতি সক্রিয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিবিআই এখন প্রধানমন্ত্রী দফতরে নেই। ওটা এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। এক মাসের মধ্যে বাংলায় একের পর এক মামলা করে চলেছে সিবিআই এবং ইডি। আমি কখনোই বিশ্বাস করি না যে এটা নরেন্দ্র মোদী করছেন। এগুলোর পেছনে বিজেপি নেতাদের হাত রয়েছে”।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মন্তব্য করে মমতা আসলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র নাম না করেই তাঁর কথা বলতে চাইলেন। তবে মমতা আসলে ঠিক কার দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গিয়েছে সিবিআই ও ইডি সম্পর্কে নানান মন্তব্য করতে আর অন্যদিকে, তাঁর সঙ্গে অমিত শাহ্‌’র সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবী, এখানে ‘বিজেপি নেতাদের’ বলতে মমতা আসলে শাহ-শুভেন্দুর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

বলে রাখি, কিছুদিন আগেই দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় নানান বিরোধী দলগুলি কটাক্ষ করেছিল যে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর গোপন আঁতাত রয়েছে। আর এদিন বিধানসভায় মোদী সম্পর্কে মমতার এহেন মন্তব্যের পর সেই কটাক্ষ হয়ত আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button