রাজ্য

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু ১৯৪১ সালে, ১৯৪৭ সালে অনশনে করা গান্ধীজির অনশন ভাঙালেন কীভাবে রবি ঠাকুর, মমতার মন্তব্যে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ

গান্ধীজিকে (Mahatma Gandhi) নাকি ফলের রস খাইয়ে তাঁর অনশন ভঙ্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। রাজনৈতিক কারণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ করার পর নিয়েই এমন অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগ।

গতকাল, বুধবার আলিপুর সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ইতিহাস বিকৃতি রোখার জন্য আরও বেশি করে ঐতিহাসিক সামগ্রী সংরক্ষণ করতে হবে। ইতিহাস বিকৃতি করার অভিযোগ আনলেও নিজেই ইতিহাস বিকৃতি করার মতো মন্তব্য করে বসলেন তিনি।

বুধবার বিকেলে মমতা বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় দিল্লিতে সেন্ট্রাল হলে প্রোগ্রাম হল। কিন্তু গান্ধীজি সেখানে হাজির ছিলেন না। মধ্যরাতের স্বাধীনতার সময় তিনি কোথায় ছিলেন? তিনি কলকাতার বেলেঘাটায় ছিলেন। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবস্থানে বসেছিলেন। যেন কোনও বিভাজন না থাকে। যেন কোনও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না থাকে”।

এদিন মমতা দাবী করেন, “গান্ধীজি শান্তির জন্য অনশন করেছিলেন। বিশ্বকবি গেছেন এক গ্লাস সরবৎ নিয়ে গান্ধীজিকে খাইয়ে অনশন ভাঙাবার জন্য। গান্ধীজি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বললেন তুমি আমাকে একটা গান শোনাও। তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গেয়েছিলেন, জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো”।

মমতা এদিন অভিযোগ করে বলেন, “দেশের ইতিহাস বিকৃত করার নতুন রীতির প্রচলন হয়েছে। সত্যের বদলে রাজনৈতিক কারণে বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে”।

বলে রাখা ভালো, বেশ কয়েক বছর আগেও বেলেঘাটায় এক নির্বাচনী সভা থেকে রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজিকে নিয়ে এই একই মন্তব্য করেছিলেন মমতা। তবে বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু হয় ১৯৪১ সালে। আর গান্ধীজি কলকাতায় অনশন করেছিলেন ১৯৪৭ সালে। তাহলে রবীন্দ্রনাথের পক্ষে শরবত খাইয়ে গান্ধীজির অনশন ভাঙানো কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। ইতিহাস বিকৃত স্বয়ং মমতাই করছেন। আর এবার ফের একবার সেই একই ইতিহাস বিকৃত করা মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button