রাজ্য

এবার লক্ষ্য ২০২৪, ছুটির মেজাজে নয়, দলের জন্য নেতা-কর্মীদের বেশি করে কাজ করার নির্দেশ মমতার

তৃণমূল কংগ্রেসকে সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলা পেরিয়ে সুদূর দিল্লিতে পৌঁছে দিতে হবে দলকে। এবার লক্ষ্য ২০২৪। আর সেই উদ্যম নিয়েই এখন থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু করে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন থেকেই সাংগঠনিক হতে চাইছে তৃণমূল।

২০২৪-কে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। এই কারণেই সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত করতে উঠে পড়ে লেগেছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড জয় মিলেছে বলেই হাত-পা গুটিয়ে ছুটির আনন্দ নিলে চলবে না। আরও বেশি কাজ করতে হবে, এমন নির্দেশই দিলেন মমতা দলের নেতা-কর্মীদের।

আরও পড়ুন- বিধানসভায় ‘অপ্রত্যাশিত’ হার বিজেপির, কারণ খুঁজতে এ মাসেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক রাজ্য নেতাদের 

দলীয় সূত্রে খবর, মমতা কড়া নির্দেশ মানুষের জন্য বেশি করে কাজ করতে হবে। কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যদি কেউ না পেয়ে থাকেন, তাহলে তা কেন পাচ্ছেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনও সমস্যা রয়েছে কী না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনও বলা হয়েছে যাতে দুয়ারে সরকার প্রকল্পগুলি দুয়ারেই পৌঁছয়।

নেতা-মন্ত্রীদের আরও বেশি করে কাজ করতে হবে দলের জন্য এমনও বলা হয়েছে। তাদের নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যেতে হবে। এর জন্য নেতাদের জন্য একটি রোস্টার তৈরি করেছে তৃণমূল, এতে কাউকে প্রত্যেকদিন আবার কাউকে নির্ধারিত দিনে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

শুধু তাই-ই নয় এই রোস্টারে যুব-মহিলা নেতৃত্বকেও নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ছাত্র নেতৃত্বকেও আসতে হবে দলীয় কার্যালয়ে, ভাগ করে নিতে হবে কাজ। দলের নানান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে তাদেরও, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “পার্টি অফিস খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। পার্টি অফিসে যাওয়ার অভ্যেস থাকাটা জরুরি। সক্রিয় নেতা বা মন্ত্রীর নিয়মিত পার্টি অফিসে থাকাটা দলের জন্যও ভাল। আগামীদিনে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে”।

আরও পড়ুন- বাবাকে তীব্র কটুক্তি ঋষির, তবুও লজ্জা নেই ‘বেহায়া’ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের!

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই মমতা এক নেতা, এক পদ নীতি চালু করেছেন। অর্থাৎ মন্ত্রীদের দলের কোনও পদ দেওয়া হবে না। ‌গত লোকসভা নির্বাচনের সময় মমতা জানিয়েছিলেন যে তিনি নিজে দলের স্বার্থে আরও বেশি করে সময় দেবেন। সেই কথা তিনি রেখেছেন। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনে মমতার এই নতুন নীতি খাটে কী না, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button