সব খবর সবার আগে।

পুজোর আগে সিভিক পুলিশদের বাড়ল না মাইনে, কথা দিয়ে কথার খেলাপ করলেন মমতা!

গত ১লা সেপ্টেম্বর রাজ্যে ঘটা করে পুলিশ দিবস পালনের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রাণের কারণে এক সপ্তাহ শোক পালন করে বাংলা তাই পুলিশ দিবসের উৎসব এক সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হয় এই রাজ্যে। পুলিশ দিবস উপলক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে সিভিক পুলিশদের ১০০০ টাকা করে মাইনে বাড়িয়ে দেওয়া হলো।

মজার কথা হল, পুজোর আগে তাদের মাইনে যা ছিলো ঠিক তাইই থেকে গিয়েছে। সম্প্রতি বাংলার বার্তা নামক ইউটিউব মিডিয়া চ্যানেলের সাংবাদিক সন্ময় বন্দোপাধ্যায় একটি তথ্য তুলে ধরেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে এক সিভিক পুলিশের মাইনে ঢোকার যে স্লিপ তার স্ক্রিনশট। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে বিধান নগর ট্রেজারি থেকে ওই সিভিক পুলিশের মাইনে বাবদ ৭৪৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে। সিভিক পুলিশদের মাইনে ছিল ৮ হাজার টাকা তার মধ্যে থেকে ৫৫০ টাকা কিছু ট্যাক্স বাবদ কেটে নেওয়া হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেছিলেন সিভিক পুলিশদের মাইনে আট হাজার টাকা থেকে বেড়ে নয় হাজার টাকা হবে। যদি তাই হয় তাহলে সিভিক পুলিশদের এখনকার মাইনে ৮ হাজার ৪৫‌০ টাকা ঢোকার কথা। কিন্তু তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার আগে যা টাকা পেতেন এবারও পুজোর আগে তাই পাচ্ছেন। হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের যে আরেকবার কথার খেলাপ করেছেন তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল।

সিভিক পুলিশরা যে কী হারে পরিশ্রম করেন তা আমরা রাস্তায় বেরোলেই দেখতে পাই। মাসিক ওই কটা টাকার বিনিময়ে তারা কখনও কখনও ১৬ঘন্টা, ১৮ ঘন্টা, ২০ ঘন্টা এমনকি ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করেন। কিন্তু তাদেরকে কনস্টেবল পদে উন্নীত করা তো দূরে থাক তাদেরকে সামান্য ১০০০ টাকা বেশি বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটুকু পর্যন্ত দিতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী। করণা পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমান তালে তালে কিন্তু এই সিভিক পুলিশরা আমাদেরকে রক্ষা করার কাজ করে গিয়েছেন এবং আসছে পুজোতে তারাও কিন্তু প্রাণপাত করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টানা কাজ করবেন। অথচ প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদেরকে সামান্য ১০০০ টাকা বেশি বেতন দিতে পারলেন না মমতা।

বাংলার কোন প্রথম সারির মিডিয়া কিন্তু এই খবরটি কভার করেনি। সিভিক পুলিশদের বঞ্চনা নিয়ে সেরকম ভাবে কেউ নন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার খেলাপ তাই জনসমক্ষে দৃঢ় হয়ে ধরা দেয় না। এই রকম ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী রোজ কত না কথার খেলাপ করে যাচ্ছেন যা হয়তো আমরা জানতেও পারিনা।

You might also like
Comments
Loading...
Share