রাজ্য

‘আমার বাড়ির পরিচারিকারও দোতলা বাড়ি, টাকা জমিয়ে বাড়ি করলে দুর্নীতিগ্রস্ত হবে কেন’, তৃণমূল নেতাদের প্রাসাদপম বাড়ি প্রসঙ্গে সাফাই মমতার

রাজ্যের নানান দুর্নীতিতে (corruption) বারবার উঠে এসেছে তৃণমূলের (TMC) নাম। শাসকদলের নানান স্তরের নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের সম্পত্তির হিসাব নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। আর উঠবে নাই বা কেন! সেসব নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তি ও প্রাসাদপম অট্টালিকা (house) দেখলে যে কোনও ধনী ব্যক্তিও যেন লজ্জা পাবেন। তৃণমূল নেতাদের বাড়ি, হাঁকানো গাড়ি আর সম্পত্তির পরিমাণ দেখলে চোখ কপালে ওঠারই কথা।

সামান্য নেতা হয়ে কীভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এমন বাড়ি-গাড়ি করতে পারে কেউ, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। শুধু নেতা-মন্ত্রীই নন, তাদের গাড়িচালক, দেহরক্ষীদেরও সম্পত্তির হিসাব দেখে স্তম্ভিত গোয়েন্দারাও। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, নেতাদের বড় বড় বাড়ি-গাড়ি থাকার মধ্যে অন্যায় তো কিছু নেই। এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও দাবী করেন যে তাঁর বাড়ির পরিচারিকার দোতলা বাড়ি রয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকেই তিনি বলেন, “কোন পঞ্চায়েত প্রধানের বড় বাড়ি রয়েছে, তা নিয়ে চর্চা হয়, কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান যখন দিনমজুরের কাজ করে, ক্ষেত মজুরের কাজ করে, তা নিয়ে কেউই আলোচনা করে না”।

তিনি বলেন যে আগেকার দিনে গ্রামের মানুষের শুধু মাটির বাড়িই থাকত। তবে এখন কোথাও কোথাও কেউ পাকা বাড়ি বানাচ্ছেন, কেউ সরকারের টাকায় বাড়ি তৈরি করছেন। মমতার কথায়, কোনও ব্যক্তি যদি টাকা জমিয়ে বাড়ি তৈরি করেন, তাহলে তাঁকে তো আর দুর্নীতিগ্রস্ত বলা চলে না। তিনি এও বলেন যে কোনও পঞ্চায়েত প্রধানের যদি সুবিশাল বাড়ি থেকেও থাকে, তাতে অন্যায়ের কী!

এদিনের এই সভা থেকে দলের সব স্তরের কর্মীদের স্বচ্ছ থাকার নিদান দেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, “দলের সব লোক খারাপ নয়। দু একজন লোভী মানুষ থাকতে পারে, তাদের বিরুদ্ধেই আমার লড়াই। আমি পঞ্চায়েতে এমন কর্মী চাই যিনি মানুষের পাশে দাঁড়াবেন”।

দলের সকলের পাশে থাকার বার্তাও দেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মানুষ তো আজ আছে, কাল নেই”। তাঁর কথায়, যতদিন সময় থাকবে, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করাই উপযুক্ত।

Related Articles

Back to top button