সব খবর সবার আগে।

চায়ের দোকানে আলু-বরবটির রান্নায় ব্যস্ত মমতা! রাজ্য দেখবে কে?

বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এর আগেই জনগণের সমর্থনের জন্য বেশ কিচু কর্মসূচী গ্রহণ করেছে শাসকদল। বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই বীরভূম সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে দেখা করলেন আদিবাসীদের সঙ্গে। এমনকি, সেখানে গিয়ে রান্নার কাজে হাত লাগাতেও দেখা যায় তাঁকে।

কিছুদিন আগেই বোলপুরে রোড শো করে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই রোড শো-এর পাল্টা জবাব দিতে গতকাল, মঙ্গলবার সেই এজি জায়গায় রোড শো করেন মমতা। বেশ ভালোই সাফল্য পেয়েছে তাঁর এই রোড শো। তবে কলকাতায় ফেরার আগে তিনি হঠাৎই একটি সফর করেন শান্তিনিকেতনের বল্লভপুরের আদিবাসী গ্রামে।

এদিন বল্লভপুর গ্রামে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সেখানে ঠিকঠাক লাগু হচ্ছে কী না, সে বিষয়েও জানতে চান। এরপরই একটি চায়ের দোকানে ঢুকে প্রশ্ন করেন যে, “কী রান্না হচ্ছে”? তারপর নিজেই আলু-বরবটির তরকারি তৈরিতে হাত লাগান।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আদিবাসী ভোটকে লক্ষ্যমাত্রা করেছে ঘাসফুল শিবির। গত নির্বাচনে আদিবাসী ভোট কম সংখ্যায় হলেও হারিয়েছেন তৃণমূল। এই কারণেই আগামী বছরের আদিবাসী ভোটের সমর্থন একেবারেই হারাতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসীদের সমর্থন পেতে যে তিনি বেশ মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তা তাঁর এইসমস্ত কর্মসূচী থেকে বেশ স্পষ্ট।

আদিবাসীদের সমর্থন পেটে এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়ায় সফর করেছেন। এরপর ফের একবার বীরভূমে গিয়ে আদিবাসী গ্রামে সফর করে নিজের অজান্তেই তিনি নিজের দুর্বলতার দিকটি স্পষ্ট করে দিলেন। অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই অমিত শাহ্‌ও সফর করে গিয়েছেন বোলপুর গ্রামে। মধ্যাহ্নভোজন সেরেছেন আদিবাসীদের বাড়িতে। এরপরই তৃণমূল সুপ্রিমোর আদিবাসীদের গ্রামে সফর থেকে এটুকু তো বেশ স্পষ্ট যে, বিরোধী পক্ষকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দিতে রাজী নয় তৃণমূল।

তবে এদিন আদিবাসী গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ সফর করা নিয়ে এলাকায় বেশ হইচই পড়ে যায়। এদিকে, রাজনৈতিক দলের একাংশের মত যে, এতদিন তাহলে কেন মুখ্যমন্ত্রীর আদিবাসীদের কথা মনে পড়েনি, তাদের ভালোমন্দ নিয়ে চিন্তিত হননি তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফর করে যাওয়ার পরই বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তেই এই জনদরদী হয়ে ওঠা কেন? এই নিয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

You might also like
Comments
Loading...