রাজ্য

‘কী ১২৫ কেজি ওজন? এত বড় মধ্যপ্রদেশ বানালেন কীভাবে’, প্রশাসনিক বৈঠকের মাঝেই ঝালদার পুরপ্রধানকে অস্বস্তিতে ফেলে প্রশ্ন মমতার

কাজের গাফিলতির জন্য প্রশাসনিক বৈঠকেই (administrative meeting) জেলাশাসককে কড়া ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পরিবেশ যখন থমথমে সেই সময় যেন নিজেই এক হাসির পরিবেশ তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝালদার পুরপ্রধান (municipality chairman) সুরেশ আগরওয়ালের ভুঁড়ি দেখে অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলেন মমতা।

গতকাল, সোমবার পুরুলিয়ার রবীন্দ্র ভবনে ছিল প্রশাসনিক বৈঠক। এদিন বৈঠকে একে একে কথা বলছেন জনপ্রতিনিধিরা। সুরেশ আগরওয়ালের যখন পালা এল, সেই সময় তাঁকে দেখেই মুখ্যমন্ত্রী ভরা বৈঠকে প্রশ্ন করেন, “এই মধ্যপ্রদেশ নিয়ে কাজ করেন কীভাবে”? এম কথা শুনে রীতিমতো হেসে ওঠেন সকলে। আর পুরপ্রধানও এর নানান ব্যাখ্যা দিতে থাকেন।

পুরপ্রধান বলেন যে তিনি প্রতিদিন সকালে পকোড়া খান। মুখ্যমন্ত্রী এই শুনে বলেন, “পকোড়া খেলে আর ভুঁড়ি কি করে কমবে? সে তো আরও বাড়বে”। পুরপ্রধান বলেন, “আমি সকাল-বিকেল ব্যায়াম করি। আমার ১২৫ কেজি ওজন”।

এরপর আর হাসি আর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হাসি চেপে রাখতে পারেন নি। রবীন্দ্র ভবনের প্রেক্ষাগৃহে তখন সকলের মুখে হাসির ছটা। ঠোঁটের কোনায় হাসি মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর। সেই সময় পুরপ্রধান বলেন, “এই চেয়ারগুলো তো আমাদের ওজন দেখেই বানানো হয়েছে”। এটা শুনে আর হাসি আর থামছিল না মুখ্যমন্ত্রীর।

পুরপ্রধান ফের বলেন, “ব্যায়াম করি দিদি”। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “আপনি কি ব্যায়াম করেন যে ভুঁড়ি কমে না? কপালভাতি জানেন? কপালভাতি ক’টা দেন’? পুরপ্রধান বলে বসেন প্রতিদিন এক হাজারটা। অবাক হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেই দেন, “হতেই পারে না। এখানে এসে করে দেখালে আপনাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেব”।

এমন সময় যেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন পুরপ্রধান। বলেন, “দিদি আমি বিকাল পাঁচটার পর করি। এখন তো কিছুতেই দেখাতে পারব না”। ফের বেশ হাসতে হাসতেই মমতা বলেন, “ব্যায়াম করে দেখান এখানে”।

এরপর পুরপ্রধানের উত্তর, “এক্সারসাইজ করি দিদি”। সেকথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু এক্সারসাইজ করলে হবে না। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সন্ধ্যে সাতটার মধ্যে খেয়ে নেবেন। ১২ ঘণ্টা গ্যাপ রাখতে হবে। আমি লোক ফিট করছি”।

এদিনের এই বৈঠক শেষে পুরপ্রধান বেশ গদগদ হয়েই বলেন, “দেখুন মুখ্যমন্ত্রী তো আমার স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিলেন। এটা কি কম বড় কথা। আর সবাই মজাও পেলেন”।

Related Articles

Back to top button