সব খবর সবার আগে।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচন: ঘরের ছেলেকে বিজেপি থেকে ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী মমতা, তৈরি হচ্ছে ব্লু প্রিন্ট

বিজেপির ওষুধেই এবার বিজেপিকে শায়েস্তা করতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে এবার কড়া জবাব দেওয়ার পথে হাঁটছে তৃণমূল। সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ঘুম কেড়ে নেওয়া এখন অন্যতম লক্ষ্য হয়েছে তৃণমূলের। এই অবস্থায় তারা দিতে চলেছে নতুন মাস্টারস্ট্রোক। বিজেপি যেভাবে তৃণমূল থেকে দল ভাঙিয়ে লোক নিয়ে গিয়েছে এবার সেই একই পদ্ধতিতে বিজেপি থেকে ভাঙিয়ে দলে সেই লোকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে তৃণমূল।

২০১৯-এ বিজেপির কাছে হারার পর দক্ষিণ দিনাজপুরে ছত্রখান হয়ে গিয়েছিল অবস্থা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসনটি বিজেপির কাছে হার মানতে হয়েছিল তৃণমূলকে। সাংসদ অর্পিতা ঘোষ তাঁর আসনটি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা তৃণমূলের সর্বময় কর্তা বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে সভাপতি করে দেন পরাজিত সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে। এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করেন অপসারিত সভাপতি বিপ্লব মিত্র। তিনি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সটান যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে।

মমতা চাইছেন বিজেপির পালের হাওয়া কেড়ে নিয়ে বিপ্লব মিত্রকে ফিরিয়ে আনতে। তৃণমূলের কাছে খবর আছে বিজেপিতে গিয়ে খুশি হননি বিপ্লববাবু। এখনও তিনি পদহীন। তাঁর অনুগামীরাও খুশি নন বিজেপির সিদ্ধান্তে। তাই প্রবীণ শঙ্কর চক্রবর্তীকে মুখ করে যদি বিপ্লব মিত্রকে ফিরিয়ে আনা যায়, তার চেষ্টা চলছে। তাহলে বিজেপিকে মোক্ষম জবাব দেওয়া যাবে বলে মনে করছে তৃণমূল।
বিপ্লববাবুর অনুগামীরা কানাকানি করতে শুরু করেছেন, যদি তৃণমূলে সম্মানজনক পুনর্বাসন পান, তবে তিনি ফিরে যেতে পারেন।

কিন্তু এখন প্রশ্ন, জেলার এই তিন হেভিওয়েটকে মেলাবার ভর কে নেবেন? এই পরিস্থিতিতে মুশকিল আসানের জন্য শুভেন্দুর ডাক পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুধু মমতা নন, শুভেন্দুকে জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে চাইছেন জেলার বৃহদাংশের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। অর্পিতা ঘোষ অনেকটাই ঘর গুছোতে পেরেছেন। তারপর বর্ষীয়ান শঙ্কর চক্রবর্তী যদি বাকি কাজটা সারতে পারেন তবে দলের জন্য সোনায় সোহাগা।  এরই মধ্যে অর্পিতা ঘোষ রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সাংসদ জেলা সভাপতি হিসেবে কতটা সময় দিয়ে সংগঠন সামলাতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

২০২১ সালে বিজেপিকে হারিয়ে নিজের হৃত গৌরব পুনর্দখল করাই এখন তৃণমূল সুপ্রিমোর মূল লক্ষ্য। তাই নিজের তূণ থেকে এবার অমোঘ বাণ ব্যবহার করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অমোঘ বাণ হলেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা শুভেন্দুকে দায়িত্ব দিতে চলেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বিপ্লব মিত্রের মতো হেভিওয়েটকে ফিরিয়ে সবাইকে মিলিয়ে দিতে, যে কাজ তিনি দিলীপ ঘোষের খাসতালুক খড়গপুরে করেছিলেন সুচারুভাবে।

You might also like
Leave a Comment