সব খবর সবার আগে।

বাগ বাজার অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব-খোয়ানো বস্তিবাসীদের আগের জায়গাতেই ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!

গতকালের সন্ধ্যার বাগবাজার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ছবি দেখেছে রাজ্যবাসীর। একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কেঁপেছে মানুষ। তিলে তিলে তৈরি করা নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন গরিব মানুষগুলি। কেউ হারিয়েছেন মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা গহনা বা কেউ মায়ের ক্যান্সারে চিকিৎসার জন্য জমানো  টাকা।

এই অসহায় মুখ গুলোর পাশেই এবার দাঁড়ালো রাজ্য সরকার। যতদিন পর্যন্ত না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন বাগবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে রাজ্য। একইসঙ্গে দ্রুত তাঁদের আগের জায়গায় ঘর তৈরি করে দেবে কলকাতা পুরসভা। আজ বৃহস্পতিবার বাগবাজার ব্রিজ সংলগ্ন হাজার বস্তি এলাকায় গিয়ে সর্বস্ব–হারানো বস্তিবাসীদের এই আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি বলেন, ‘কাল যতক্ষণ পর্যন্ত আগুন না নিভেছে ততক্ষণ আমি খোঁজ নিয়েছি। আমার সঙ্গে বহু বার অতীন ঘোষ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শশী পাঁজা, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, পুলিশ কমিশনারের কথা হয়েছে। দমকলকর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবকরা সবাই মিলে কাজ করেছে।’

বস্তিবাসীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাসবাণী, ‘আগুন নেভানোর পর আমাদের কাজ ছিল আপনাদের কোনও কোনও জায়গায় স্থানান্তর করিয়ে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা করা। সেগুলো আমরা করেছি। আজ আর কাল এখানে পরিষ্কারের কাজ চলবে। তার পর আগের মতো যাঁর যেখানে ঘর ছিল তা তৈরি করে দেবে কলকাতা পুরসভা। আপনাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। যাঁর যেরকম ছিল সেভাবেই ঘর করে দেবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল ঠিক সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ আগুন লাগে বাগবাজারের হাজার বস্তিতে। দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছনোর আগেই বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন, একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডারে শুরু হয় বিস্ফোরণ। আগুনে পুড়ে গিয়েছে ১০০টিরও বেশি ঝুপড়ি। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০০ মানুষ। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বস্তি সংলগ্ন মায়ের বাড়ির উদ্বোধনী কার্যালয়‌ও।

গতকালই পুলিশ ও দমকল দেরিতে পৌঁছেছে বলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল স্থানীয় জনতা। আজ মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে সেই ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।

 

You might also like
Comments
Loading...